সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৪০ পিএম
আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৪৭ পিএম
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল আজিজ সরদার। প্রবা ফটো
দীর্ঘ ২৬ বছর পলাতক ছিলেন সাতক্ষীরার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল আজিজ সরদার। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। বুধবার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরার সুলতানপুরের এন্তাজ সরদারের ছেলে।
বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সদর থানার উপপরিদর্শক লোকমান হোসেন।
উপপরিদর্শক বলেন, তার নেতৃত্বে এএসআই আনিসুর রহমান ও কনস্টেবল লেলিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, আসামি দীর্ঘদিন সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কিশোরগঞ্জে পালিয়ে ছিলেন। সম্প্রতি ঢাকায় তার ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৯৭ সালের ২০ এপ্রিল সুলতানপুরে নিজ বাড়িতে স্ত্রী রেহানা পারভিনকে ৮০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যা করেন আব্দুল আজিজ। ঘটনার পরদিন রেহানার চাচা গোবরদাড়ি গ্রামের শওকত আলী সরদার বাদী হয়ে সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় আব্দুল আজিজ ও তার ভাই রুহুল কুদ্দুসসহ ৫ জনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন আব্দুল আজিজ। ১৯৯৮ সালে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। এরপর ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জি আযম তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু জানান, ১২ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামি আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রায় ২৬ বছর সে পলাতক থাকার পর আজ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। রায় ঘোষণার কয়েকবছর আগে আরেক আসামি আব্দুল আজিজের ভাই রুহুল কুদ্দুস মারা যান।