হাওরাঞ্চল (মোহনগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৫৯ পিএম
চিকাডুবি বিল থেকে একটি চক্র সারা বছর ধরে মা মাছসহ কয়েক লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রবা ফটো
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার চিকাডুবি বিল সরকার ঘোষিত মৎস্য অভয়াশ্রম। দেশিয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বংশ বাড়ানোর লক্ষে ২০১১ সালে উপজেলার গজারিয়া জলমহালের আওতায় এই গভীর বিলটিকে মাছেদের জন্য অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু একটি চক্র প্রকাশ্যে এ অভয়াশ্রম থেকে সারা বছর ধরে মা মাছসহ কয়েক লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ এলাকাবাসী মাছ ধরার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। অভয়াশ্রমের দায়িত্বে থাকা উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয় না কোন কার্যকর পদক্ষেপ।
স্থানীয়রা জানান, বানিয়াহারী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এবং বরান্তর গ্রামের মুক্তু মিয়া, তারা মিয়া ও নূর আলম মিলে মাছের অভয়াশ্রমে তাদের মালিকানায় জায়গা রয়েছে দাবি করে সারা বছর বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ ধরে নিয়ে যায়।
চিকাডুবি হাওর পাড়ের বরান্তর, বানিয়াহারী ও করাচাপুর গ্রামের কয়েকজন কৃষকে জানান, যারা মাছ ধরে তারা প্রভাবশালী ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, বেড় জাল, খনা জাল, ঝাঁপ জাল, লাড় বরশী দিয়ে রুই, কাতল, আইড়, বোয়াল, গোলা, পাবদা, গলদা চিংড়ি, আলনীসহ দেশিয় বড় মাছ ধরে নিয়ে বিক্রি করে থাকে।
এছাড়া ডিমওয়ালা মা মাছ ধরে বিভিন্ন মৎস্য আড়তে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পায়না বলেও তারা জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি সরকারি অভয়াশ্রম থেকে কোনো মাছ ধরিনি। আমি আমার জায়গা থেকে মাছ ধরেছি। তাতে দোষের কী আছে।
সম্প্রতি মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে এমন খবর পেয়ে উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা তানভির আহম্মেদ পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের গগন বেড় নামের বিশাল আকৃতির একটি নিষিদ্ধ জালসহ মাছ ধরার সরঞ্জামাদি জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে মাছ ধরায় জড়িতরা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা।
মোহনগঞ্জ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজুয়ান আলী খান আর্নিক বলেন, বিলুপ্ত প্রায় মাছের প্রজাতি রক্ষার জন্য হাওর এলাকায় আরও বেশি অভয়াশ্রম গড়ে তোলা খুব জরুরি। মৎস্য অভয়াশ্রম হলো জলাশয়ের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় সব ধরনের মাছের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও তাদের প্রজননের জায়গা। দেশের মৎস্য সম্পদকে রক্ষা করতে হলে সব অভয়াশ্রমের প্রতি আমাদের আরও যত্নশীল হতে হবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, আমাদের লোকবলের অভাব থাকায় হাওড়ের দুর্গম এলাকায় গিয়ে অভয়াশ্রমটি রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইতিমধ্যে আমরা সেখানে অভিযান চালিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাব্বির আহম্মেদ আকুঞ্জি বলেন, চিকাডুবি অভয়াশ্রম থেকে অবৈধভাবে মাছ ধরার সাথে জড়িতদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।