সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:৫০ পিএম
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৩৪ পিএম
সিলেটের বিয়ানীবাজারে নিজের খুন হওয়ার নাটক সাজানো যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের বিয়ানীবাজারে নিজের খুন হওয়ার নাটক সাজানো যুবক নাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১ এপ্রিল) তাকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
খুনের নাটক সাজানোর পর আত্মগোপনে ছিলেন নাহিদ। তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ মূল রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, নাহিদ ১৪ বছর ধরে সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করছিলেন। তার আসল স্থায়ী ঠিকানা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বড়ভিটা পূর্ব পাড়ায় হলেও কৌশলে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার ভোর রাতে বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমান উদ্দিনের কাছে মোবাইল ফোনে তারা জানতে পারেন, মাথিউরা পূর্বপার গ্রামের আব্দুল হেকিমের বাড়ির কেয়ারটেকার নাহিদ ইসলাম খুন হয়েছেন। পরে বিয়ানীবাজার থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বিছানা, ঘরের মেঝে এবং বারান্দা রক্ত সদৃশ দাগ থাকলেও লাশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। লাশ উদ্ধার এবং কীভাবে কারা হত্যা করেছে তা নিশ্চিত হতে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। এতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশ সুপার আরও জানান, অনলাইনে জুয়া খেলে বড় অংকের ঋণগ্রস্ত ছিলেন নাহিদ। এই ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে নিজেকে খুন হওয়ার নাটক সাজিয়েছিলেন। নাহিদের প্রকৃত নাম তাজুল ইসলাম। তিনি কৌশলে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম পরিবর্তন ও আসল ঠিকানা গোপন করে বিয়ানীবাজারের ওই বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
নাহিদের এই খুনের নাটক সাজানোর পর পুলিশের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। তার ঘর একাধিকবার তল্লাশি করে একটি ডায়েরি পাওয়া যায়। যাতে অনেক দেনা-পাওনার হিসাব লিখে রেখেছিলেন নাহিদ। এ সময় তার ঘরে ব্যবহৃত একটি বালতি ও মগে রং গুলিয়ে রাখার আলামত পাওয়া যায় বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।