আব্দুল্লাহ আল মামুন, ফেনী
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:০৫ পিএম
ফেনী নদীর শাখা খালের মধ্যেই বহুতল ভবনের সীমানা প্রাচীর। বন্ধ হয়ে গেছে পানিপ্রবাহ। প্রবা ফটো
দখল, ভরাট ও বন্দোবস্তের কারণে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বিজিবি ক্যাম্প সম্মুখস্থ ছোট ফেনী নদীর শাখা খালটি। পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানকার আশপাশের ফসলি জমিও অনাবাদি হয়ে পড়ছে।
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না হলে আসছে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খালটি রক্ষায় প্রশাসনের তেমন কোনো উদ্যোগ বলেই অভিযোগ তাদের।
সরেজমিন দেখা গেছে, ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পূর্বপাশে খালের পাড়ে রয়েছে দোকানপাট। তৎসংলগ্ন বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে ছেরাজুল হক-রাজিয়া সুলতানা শিক্ষক দম্পতির বাড়ি। বাড়িঘেঁষে খালের পানি প্রবাহ ছিল। সম্প্রতি বাড়ির সামনের খালের মধ্যেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। মূলত এজন্যই খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা আক্তার তানিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
নুরুল আমিন, আবদুর রশিদসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ছোট ফেনী নদীতে পানি চলাচলের জন্য ১০ ফুট রেখে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। শর্তসাপেক্ষে মালিক হওয়া বন্দোবস্তের জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম নেই। বন্দোবস্ত পাওয়ার পর থেকে গত বছর পর্যন্ত খালে পানি চলাচল করত। ইতোমধ্যে কালভার্টের মুখে বালুর বস্তা দিয়ে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষক দম্পতি। খালের মধ্যেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেছে। এ ব্যাপারে তারা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মো. শাহাজাহান নামে আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, খালের পাশেই কাশিমপুর মৌজায় ৪টি ফিশারি ও ৫০০ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে এসব জমি অনাবাদি হয়ে যাবে। খালে সারা বছর পানি থাকত। এখন পানির পরিমাণও দিন দিন কমে যাচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছেরাজুল হক ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা। তাদের দাবি, শর্ত মেনেই বন্দোবস্তের জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। ইউএনওর নির্দেশে সাময়িক কাজ বন্ধ রেখেছেন।
ইউএনও নাহিদা আক্তার তানিয়া বলেন, ‘খালটির মধ্যে পাকা ভবন নির্মাণ করার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বন্দোবস্তের কাগজপত্র দেখে পানি প্রবাহের ১০ ফুট জায়গা রেখে কাজ করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’