বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৩ ১৭:১৫ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সরকারি হালট দখল করে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় রাস্তা সরু হয়ে গেছে। প্রবা ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সরকারি হালট দখল করে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় রাস্তা সরু হয়ে গেছে। ফলে রাস্তা পাকা করার কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এলকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কি মিত্র চাকমা বলেন, ‘রাস্তা দখলের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগে বলা হয়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলেম মিয়ার বাড়ির মোড় থেকে মো. খোকা মিয়ার বাড়ির মোড় হয়ে কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এলজিইডির রাস্তা পাকা করনের কাজ শুরু হয়েছে। ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তার কাজটি বাস্তবায়ন করছে রহমান অ্যান্ড সন্স নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
রাস্তার দক্ষিণে মো. বাবুল মিয়া, মো. মোহন মিয়া, মো. বিল্লাল মিয়া, মো. খোকা মিয়া, মো. বাতেন মিয়াসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাস্তা দখল করে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও টিনের বেড়া দিয়ে রেখেছেন। এতে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। কয়েক দফা সীমানা প্রাচীর ও টিনের বেড়া সরানোর কথা বললেও তা সরিয়ে না নেওয়ায় ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছে।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কদমতলী গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় হালট দখল করে দেয়াল নির্মাণ করেছেন বাবুল মিয়া। প্রতিবেশী মোহন মিয়া, বিল্লাল মিয়া, খোকা মিয়া ও বাতেন মিয়া রাস্তা দখল করে টিনের বেড়া দিয়ে রেখেছেন। সীমানা প্রাচীর ও টিনের বেড়ার কারণে রাস্তা সংকোচিত হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
কদমতলী গ্রামের নাজির হোসেন বলেন, ‘এ রাস্তাটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো হলেও রাস্তাটি পাকা হয়নি। পাকা করনের কাজ শুরু হলেও কয়েকজন রাস্তা দখল করে রাখার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি রাস্তা দখল মুক্ত করতে।’
দখলদার মোহন মিয়া বলেন, ‘রাস্তা নিতে গিয়ে যদি আমার জায়গা ছাড়তে হয় তাহলে অপর পাশে যারা আছে তারা আগে ছাড়ুক। তারাওতো হালট দখল করে আছে। এটা সরকারি হালট সবাই জানে। তবে আমি একা নই, সবাই জায়গা ছেড়ে দিলে আমিও ছেড়ে দেব।’
দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মহসিন মিয়া বলেন, ‘দক্ষিণ পাড়ার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়ত করে। এটি তাদের যাতায়তের একমাত্র সড়ক। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা হয়ে যায়। তখন চলাচলে মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে পাকা করনের কাজ শুরু হলেও কয়েকজন ব্যক্তির কারণে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. মাসুম বলেন, কদমতলী দক্ষিণ পাড়ার কয়েকজন ব্যক্তি রাস্তার উপর পাকা সীমানা প্রাচীর ও টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে রেখেছেন। এতে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এজন্য রাস্তার কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান উজ্জল বলেন, ‘দক্ষিণ পাড়ার এই রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামের জন্য। এই রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়ত করে। তবে কয়েকজন রাস্তার জায়গা দখল করে রাখায় ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন, নিজে এসে জায়গাটি দেখে ব্যবস্থা নেবেন।’
উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কদমতলী গ্রামের ওই রাস্তার অনেক জায়গা সরু অবস্থায় রয়েছে। অনেকে জায়গা ছাড়তে চাচ্ছেন না। খালের মধ্যে রাস্তা করতে বলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে।