শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৩ ১২:৫৮ পিএম
আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৩ ১৬:১৮ পিএম
দুবলার চরে মাচানে মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করছেন জেলেরা। প্রবা ফটো
পূর্ব সুন্দরবনের দুবলারচরে পাঁচ মাস ধরে চলা শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুম শেষে ঘরে ফিরছেন জেলেরা। শুক্রবার (৩১ মার্চ) শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন পাঁচটি চরের ১০ হাজারের অধিক জেলে নিজবাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
বন বিভাগ এ বছরে শুঁটকি থেকে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে; যা গত বছরের তুলনায় ২ কোটি ৩৫ লাখ বেশি। তবে বন বিভাগের রাজস্ব বৃদ্ধি হলেও শুঁটকির দাম না পেয়ে জেলেদের লোকসান গুনতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা।
বন বিভাগের দুবলা জেলেপল্লীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা জেলেপল্লীর আওতাধীন আলোর কোল, মেহেরআলী, অফিস কিল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলার চরে ১০ হাজার জেলে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এসব চরে তারা অস্থায়ী ঘর নির্মাণ ও মাছ শুকানোর জন্য মাচান তৈরি করে মাছ শুকিয়ে শুঁটকি করে থাকেন। চরগুলোয় সাধারণত চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, খুলনার পাইকগাছা, দাকোপ, বাগেরহাটের রামপাল, মোংলা ও শরণখোলার জেলেরা এসে মাছ ধরা ও শুঁটকির কাজ করে থাকেন। মৌসুম শেষ হওয়ায় ইতোমধ্যে ৮০ ভাগ জেলে তাদের ঘর ও মাচান ভেঙে নিয়ে চলে গেছেন। বাকিরা আজকের মধ্যে চলে যাবেন।’
তিনি বলেন, ‘জেলেরা বঙ্গোপসাগর থেকে ছুড়ি, লইট্টা, লাক্ষ্যা, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে এনে মাচানে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে থাকেন। দুবলারচরে কীটনাশক ছাড়া রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয় বলে এখানকার শুঁটকির সারা দেশে চাহিদা রয়েছে। এমনকি দুবলারচরের শুঁটকি বিদেশেও রপ্তানি হয়।’
চট্টগ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী জাহিদ বহাদ্দার বলেন, ‘২৩ বছর ধরে সুন্দরবনের দুবলায় পাঁচ ব্যবসায়ী শুঁটকি ব্যবসা করে আসছি। আজকে সব গুছিয়ে চট্টগ্রাম ফিরে যাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় এবার শুঁটকি ও ঘরের রাজস্ব প্রায় দ্বিগুণ করেছে। আমাদের সীমানায় এসে ভারতীয় জেলেরা মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণে আমরা মাছ পাইনি। আমাদের পাঁচ ব্যবসায়ীর প্রায় দেড় কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। গত বছর লইট্টা, ছুড়ি ও লাক্ষ্যা মাছ বেশি পড়ায় শুঁটকির দাম বেশি পাওয়া গেছে। কিন্তু এবারে কম দামের ছোট মাছ বেশি পাওয়ায় মাছের দাম পাইনি। তবে ওজন হিসেবে মাছের রাজস্ব একই রকম দিতে হয়েছে।’
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘গত বছর থেকে বন বিভাগ রাজস্ব দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে। ১০০ কেজি শুঁটকির রাজস্ব ৫০০ টাকার স্থানে ১ হাজার টাকা করেছে। এ ছাড়া এ বছরে পূর্ণিমার সময় মাছ পাওয়া যায়নি। এ কারণে ৮০ ভাগ জেলের লোকসান হয়েছে। লোকসান মাথায় নিয়ে ইতোমধ্যে জেলেরা চলে যেতে শুরু করেছেন। তবে আবহাওয়া খারাপের কারণে মাছ শুকাতে দেরি হওয়ায় কিছু জেলে এখনও রয়েছেন। তারা আজকে চলে যাবেন।’