মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৩ ২২:০৯ পিএম
‘ঘরে এক বেলা খাবার জোটে তো অন্যবেলা জোটে না। ওষুধ কিনব কীভাবে, গরিবের আবার বিচার কি?’ কথাগুলো বলে অঝোরে কাঁদছিলেন কল্পনা রানী হালদার। সে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঢুলিগাতি গ্রামের নির্যাতিত দিনমজুর রমনী হালদারের স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে বিচার দিয়েও কোন সমাধান হয়নি। প্রভাবশালীদের কাছে সকলেই যেনো চুপ।’
কল্পনা রানী হালদার জানান, ছেলে সুমন হালদারের কাছে প্রতিবেশী ওমর আলী হাওলাদার ভ্যান ভাড়ার ১৫০ টাকা পাওয়াকে কেন্দ্র করে গত মাসের ২৭ তারিখ বাকবিতান্ডা হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় ঢুলিগাতী বাজারে তার স্বামী রমনী হালদারকে পরিকল্পিতভাবে ওমর আলী হাওলাদারসহ ৩/৪জনে নির্যাতন করে গোপনাঙ্গ কামড়িয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে ১৮ দিন চিকিৎসা নিয়ে কোন মতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও অর্থাভাবে ওষুধপত্র কিনতে পারছে না। বিছানায় কাতরাচ্ছেন ৫ সদস্যের পরিবারের উপার্যনের ভরসা বৃদ্ধ রমনী হালদার।
অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চলতো তাদের সংসার। এখন ওই পরিবারের এক বেলা ভাত জোটে, অন্য বেলা জোটেনা্। সুমন হালদার ভ্যান চালিয়ে কোনমতে সংসার চালাচ্ছে। কল্পনা রানী হালদার বলেন, ‘স্বামীকে নিয়ে এক কাপড়ে ১৮ দিন ছিলাম হাসপাতালে। নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছি। খাবার জোটেনা, ওষুধ কিনবো কি দিয়ে? চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রায় ১ মাস হলেও বিচার পাইনি। গরিবের আবার বিচার কি? ছেলে একাধিকবার পরিষদে গেলেও চেয়ারম্যান বলছে এ বিষয় পরে দেখবো।’
বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সোমাদ্দার বলেন, ‘রমনী হালদার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার গোনাঙ্গে কামড়ের আঘাত রয়েছে। ওখানের অনেক অংশে জুড়ে মাংস থেতলিয়ে ইনজুরি হয়েছে।’
জানতে চাইলে ওমর আলী হাওলাদার বলেন, ‘রমনী হালদারের সাথে পাওনা টাকা নিয়ে ছোটখাটো মারামারি হয়েছে। আমাকেও সে মারপিট করেছে। গোপনাঙ্গে জখমের বিষয়টি ষড়যন্ত্র।’এদিকে হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী হাসান ফকির, স্থানীয় বাসিন্দা দিপু রায়, সঞ্চয় হালদার, আব্দুস ছোবাহান খান, শাখাওয়াত হাওলাদারসহ অনেকে।
এ সর্ম্পকে তেলিগাতী ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদা আক্তার বলেন, ‘রমনী হালদারের মারপিটের ঘটনা বিষয়টি প্রথমে মৌখিকভাবে পরিবারের লোকজন জানিয়েছে। পরবর্তীতে লিখিত আকারে অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রাম্য আদালতে বিচারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’