মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৩ ১৮:০৯ পিএম
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৩ ১৮:৫৪ পিএম
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বড় বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বড় বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৯৯৯-এ কল করা হলেও ঘটনাস্থলে আসেনি থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় বুধবার (২৯ মার্চ) ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান টিটু বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্যরা হলো—একই এলাকার মো. মামুন মিয়া, মো. রাব্বি মিয়া, সিয়াম মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৮-১০ জনের একটি দল।
থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ কুড়িমারা (মাঝি বাড়ি) এলাকার খুর্শিদ উদ্দিনের ডিগ্রি প্রথম বর্ষে পড়ুয়া মেয়েকে একই এলাকার মামুন, রাব্বি ও সিয়াম বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এসব ঘটনা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ওই কলেজছাত্রীকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে সম্ভ্রম নষ্টের হুমকি দেয়। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দিনরাত ওই ছাত্রীর বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করে, তার নাম ধরে ডাকাডাকি ও অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই ছাত্রী ঘরে পড়তে বসলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ঘরের পেছন থেকে নাম ধরে ডাকাডাকি ও অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর ছোট ভাই প্রতিবাদ করলে তাকে মারপিট করতে থাকে। এ সময় ওই ছাত্রী তার ভাইকে বাঁচাতে গেলে তাকেও মারপিট করে ও শ্লীলতাহানী করে। তাদের চিৎকারে তার বড় বোন এগিয়ে গেলে বখাটে সিয়াম তাকেও মারধর শ্লীলতাহানী করে ও সেখান থেকে চলে যায়।
কিছুক্ষণ পর মামুন, রাব্বি ও সিয়ামসহ ৮-১০ জনের একটি দল রামদা, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে ওই ছাত্রীকে ও তার বড় বোনকে উঠিয়ে নিতে হামলা করে। কিন্তু তারা ঘরের দরজা বন্ধ করে পালিয়ে গেলে বসতঘরের টিনের বেড়া, দরজা, জানালা কুপিয়ে ভাঙচুর করে। যার আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিলে খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ভুক্তভোগীদের পিতা খুর্শিদ উদ্দিন জানান, ওই বখাটের দল নেশাগ্রস্ত। তারা বেশ কিছুদিন ধরে তার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল।