রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৩ ১২:২৩ পিএম
রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যা এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বরকলক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রবা ফটো
রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন দুমদুম্যা। সদর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে এই ইউনিয়নে মোট ৩৪টি গ্রাম রয়েছে। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ জুমচাষি। তাদের শিশুরা প্রাথমিকের গণ্ডি পার হওয়ার পর মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় পড়ালেখা এগিয়ে নিতে পারে না।
শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে স্থানীয় অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা নিজেদের তোলা চাঁদার টাকায় বরকলক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন। তবে এমন দৃষ্টান্ত আর্থিক অনটনে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তারা বিদ্যালয়টি দ্রুত সরকারি সুযোগ সুবিধার আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের ৫৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন প্রধান শিক্ষক, ১১ জন সহকারী শিক্ষকসহ মোট ১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে তাদের বেতন দেন। এর মধ্যে অনেক অভিভাবকের পক্ষে টাকা দেওয়া সম্ভব হয় না। বেতন নিয়মিত না হওয়ায় শিক্ষকরাও বিদ্যালয় ছাড়তে চান। এতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে বরকলক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর একাধিক ইউএনও বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করলেও বাড়েনি কোনো সুযোগ সুবিধা। বিদ্যালয়ের নামে খাসজমি বরাদ্দ করলে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। কিন্তু এ নিয়ে কয়েকবার আবেদন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।
ডানে তেছড়ির সুন্দর মালা চাকমা, বরকলক গ্রামের সোবী চাকমা, দজরী পাড়ার হেমন্ত চাকমা, গাছতলী পাড়ার রেখা চাকমারা জানান, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। পাহাড়ি দুর্গম পথে জুরাছড়ি শহরে গিয়ে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে প্রাথমিকের পর তাদের জীবন থেকে লেখাপড়ার পর্ব শেষ হয়ে যায়।
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তরুণ মনি চাকমা বলেন, স্বাধীনতার ৫১ বছর পরেও দুমদুম্যায় সরকারিভাবে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ইউনিয়নের সব শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর পড়ালেখার ইতি টানতে হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অনিল বরণ চাকমা বলেন, শতভাগ এলাকাবাসী জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। তাদের দারিদ্র্যতার কথা চিন্তা করে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির জন্য বহুবার আবেদন করেছি। ভূমি সমস্যার কারণে শর্তপূরণ সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয়ের নামে খাসজমি বন্দোবস্ত করার জন্য রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষ্মী কুমার চাকমা বলেন, পাড়ার মানুষ চাঁদা তুলে আমাদের বেতন দেন। অনেক অভিভাবকের বেতন দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আমাদের বেতন নিয়মিত নয়। বেতন কম হওয়ার কারণে অন্যান্য শিক্ষকরা চলে যেতে চান। শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাবে।
ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাধন কুমার চাকমা বলেন, দুমদুম্যা ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যালয়টি চালু রাখার জন্য প্রশাসনসহ সবার এগিয়ে আসা উচিত। বিদ্যালয়টি একবার বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের পাঠের যে ক্ষতি হবে তা কোনোভাবে সমাধান করা যাবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিতেন্দ্র কুমার নাথ বলেন, সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করা হবে।