মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৩ ২০:৫২ পিএম
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩ ২১:১১ পিএম
ক্ষেতের আলে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় মাছের ঘেরে লবণপানি তোলায় প্রায় সাড়ে তিনশ বিঘা জমির ধানগাছ মরে গেছে। এতে উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ গ্রামের ৫৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মাছের ঘেরে পানি তোলার পর সেই পানি চুইয়ে আশপাশের ধানের জমিতে ঢুকে এই ক্ষতি হয়। এর প্রতিবাদে সোমবার (২৭ মার্চ) ক্ষেতের আলে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এলাকার ঘেরমালিক সাহেব আলী শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দেবরাজ গ্রামের লোকমান তালুকদার। লোকমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমন ধান তোলার পরে প্রতি বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে হিরা-২ জাতের ধান চাষ করেছেন তারা। আর ১৫-২০ দিন পর ধান ঘরে তোলা যেত। প্রতি বিঘায় ৪০-৪৫ মণ ধান পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু লবণপানিতে তাদের সেই স্বপ্ন ছাই হয়ে গেছে।
ওই গ্রামের সাইফুল তালুকদার বলেন, ‘মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে ধান চাষ করেছি। এখন তা কীভাবে শোধ করব জানি না।’
কৃষকের এই ক্ষতির বিষয়টি পঞ্চকরণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক কৃষক বিষয়টি আমাকে অবহিত করলে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত আকারে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে, এক টুকরো জমি অনাবাদি থাকবে না।’ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি বেআইনিভাবে লবণপানি যারা তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই জনপ্রতিনিধি।
অভিযোগ যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী বলেন, ‘হতদরিদ্র কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তারা দেনা হয়ে গেছেন। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘেরে লবণপানি তুলে অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন।’
লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও এসএম তারেক সুলতান।
তিনি বলেন, ’তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন তহসিলদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে সাহেব আলী দাবি করেছেন, তারা লবণপানি তোলার আগেই ওই কৃষকদের ধানগাছ মরে গেছে। ঘেরে মাছ চাষের জন্য তারা লবণপানি তুলেছেন বলে তিনি জানান।