বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৩ ১৭:৪৪ পিএম
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩ ১৮:৫৫ পিএম
বরগুনার তালতলী উপজেলার পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে প্রবল জোয়ারে প্রায় ১০০ ফুট বেড়িবাঁধ নদীতে চলে গেছে। প্রবা ফটো
বরগুনার তালতলীর পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীর বেড়িবাঁধে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপকূলের বিস্তীর্ণ জনপদ লোনা পানিতে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে। নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেছেন, ‘তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় আবারও বেড়িবাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই এলাকার মানুষ। এবারও তাই হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক গ্রাম ডুবে যাবে।’
সোমবার (২৭ মার্চ) গিয়ে দেখা যায়, পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে প্রবল জোয়ারে প্রায় ১০০ ফুট বেড়িবাঁধ নদীতে চলে গেছে। বাঁধের এই অংশে দেড় থেকে দুই ফুট অবশিষ্ট রয়েছে। তাৎক্ষণিক মেরামত করা না গেলে পরবর্তী যেকোনো জোয়ারে পুরো এলাকা পুরোপুরি ধসে গিয়ে প্লাবিত হতে পারে। এ ছাড়াও এই এলাকার সাড়ে চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিকল্পিত আর টেকসই বেড়িবাঁধ না হওয়ায় প্রতিবছরই ভাঙনের কবলে পড়ে। এজন্য তারা পাউবোর গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।
২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর মধ্যে তালতলী উপজেলার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এরপর থেকেই ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঁচতে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি তোলেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ ফিরোজ বলেন, ‘যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। এর আগেও কয়েকবার বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে এলাকায় লোনা পানি ঢুকলে সব ধরনের ফসল ও গাছ মারা যায়। ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। তখন গরু-ছাগল, পশু-পাখি নিয়ে বিপদে পড়তে হয়। বাঁধ ঠিক হলে আবার ঘর ঠিক করে বসবাস শুরু করি। একটু গুছিয়ে উঠতেই দেখা যায় আবার বাঁধ ভেঙে সব শেষ হয়ে গেছে।’
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হাসান বলেন, ‘ভাঙনের খবর পেয়ে একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সার্ভে করতে পাঠিয়েছি। সার্ভে রিপোর্ট দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’