× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জমির জটিলতায় আটকেছে পানি সরানোর কাজ

সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৩ ১৫:৫৫ পিএম

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৩ ১৫:৫৭ পিএম

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্প।

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্প।

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্প জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে। ছয় হাজার ৫১৬ কাঠা জমি অধিগ্রহণ করতে না পারায় প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় আবারও বাড়তে যাচ্ছে। তবে অন্যান্য কাজ মিলে প্রকল্পের ৭৬ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কর্মকর্তা কর্নেল শাহ আলী বলেন, নতুন-পুরোনো মিলে ৮৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ এবং ৩৬টি খালের মধ্যে ১৪টির খননকাজ শেষ হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন খালের ওপর ৫৪টি সেতু-কালভার্ট এবং পাঁচটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। খালপাড়ে ৮৫.৬৮ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ১৫ কিলোমিটার নির্মাণ শেষ হয়েছে। বিভিন্ন খালের দুই পাশে মোট ১১৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণও শেষ হয়েছে। সব মিলে ৭৬ শতাংশ প্রায় শেষ।

বাকি প্রায় ২০ শতাংশ কাজ জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অঙ্গ রিটেইনিং ওয়াল ও তিনটি জলাধার নির্মাণ। এসবের জন্য ছয় হাজার ৫১৬ কাঠা জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) জমি এখনও অধিগ্রহণ করে দিতে পারেনি। এ কারণে নগরীর চাকতাই খাল, হিজরা খাল, মির্জা খাল, ত্রিপুরা খালে রিটেইনিং ওয়াল, সিল্ক ট্রাপ, খাল সম্প্রসারণ ও অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণসহ বেশ কিছু কাজ আটকে আছে। এক কথায়, ৫৬১৬ কাঠা জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় প্রায় ২০ শতাংশ কাজ আটকে আছে। জমি অধিগ্রহণ করে দিলে এক বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হবে। নগরবাসী তখনই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন।

নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে বাঁচাতে সিডিএ ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেয় ২০১৬ সালে। ওই বছরের ৯ আগস্ট প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২০ সাল পর্যন্ত। ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সঙ্গে সিডিএর চুক্তির পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি সিডিএ। দুই দুফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন নেওয়া হয়।

সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মাহফুজুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, যখন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল তখনের চেয়ে এখন জমির দাম তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই প্রকল্প সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে পেন্ডিং অবস্থায় আছে। অনুমোদন হলেই জমি অধিগ্রহণ শুরু হবে।

প্রকল্পের মাঝখানে এসে সংশোধনের বিষয়টির সমালোচনা হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়া প্রকল্পটির অনুমোদন নেওয়ায় এই অবস্থা। প্রকল্পে অসংগতি ছিল। এ কারণে মাঝখানে এসে সংশোধন করতে হচ্ছে। প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ ফিজিবিলিটি স্টাডি করা প্রয়োজন।’

এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছেন। বর্ষাকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ নিমাঞ্চল হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে মহানগরীর বাকলিয়া ডিসি রোড, তালতলা, চাঁন্দগাও, খতিবের হাট, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, চাকতাই, খাতুনগঞ্জ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ২ নম্বর গেট, জিইসি, ফরিদার পাড়া, চকবাজার, বাদুরতলা, কাপাসগোলা, ষোলশহর, মোগলটুলি, আগ্রাবাদ, ট্রাংক রোড, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, আগ্রাবাদ, ঈদগাঁও, কাতালগঞ্জ, শুলকবহর, হালিশহর, বিবিরহাট এলাকা, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। চলমান প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতার নিরসন হবে বলে নগরবাসী আশা করছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা