কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৩ ১৪:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৩ ১৫:২৮ পিএম
নিহত ছাত্রলীগকর্মী শামীম আশরাফ বাবলু। প্রবা ফটো
কুড়িগ্রাম সদরের ছাত্রলীগকর্মী বাবলু হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা থানায় ঝুলে থাকলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। পুলিশের খাতায় আসামিরা পলাতক হলেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করছে নিহতের পরিবার।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তারা পলাতক থাকে। এখানে পুলিশের কোনো হেঁয়ালি নেই। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।’
নিহত বাবলুর বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমি হতাশ। তারা বিভিন্নভাবে মীমাংসার চাপ দিচ্ছে। ছেলেকে হারিয়েছি আমি। বিচার মনে হয় পাব না। মূল আসামিদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে নাই। আসামিরা প্রকাশ্যে আমার সামনে ঘুরে বেড়ায়। মামলা ফয়সালা করতে চাপ দেয়। আমি কার কাছে বিচার দেব।’
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাবলু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য আমি নিজেও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের হেঁয়ালি রয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি পুলিশ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ হয়েছে। তা না হলে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ গ্রেপ্তার করবে না কেন। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার না করলে জেলা ছাত্রলীগ আন্দোলনে যাবে।’
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৮ জুন কুড়িগ্রাম সদরের বেলগাছা ইউনিয়নের নীলকণ্ঠ গ্রামে ছাত্রলীগকর্মী শামীম আশরাফ বাবলুর বাড়িতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলায় গুরুতর আহত বাবলুকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। অভিযোগ ওঠে বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়ার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছিল। পরে ইউপি চেয়ারম্যান লিটন মিয়াসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বড় ভাই।
আদালতের নথি থেকে জানা গেছে, উচ্চ আদালত থেকে দুই দফা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিলেও মেয়াদ শেষে আসামিরা একবারও আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। সর্বশেষ গত অক্টোবরে তাদের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও গত পাঁচ মাসে আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
আদালত সূত্র জানায়, ছাত্রলীগকর্মী বাবলু হত্যার পর বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান লিটন মিয়াসহ ছয় আসামি হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জামিন নেন। মেয়াদ শেষে তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া থাকলেও তারা তা করেননি। ফলে গত বছরের আগস্ট মাসে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ১১ আগস্ট পরোয়ানা সদর থানায় পৌঁছালেও আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। পরোয়ানা থাকাকালীন সময়ে একই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর পূর্বের জামিনের তথ্য গোপন করে আবারও হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্ববর্তীকালীন জামিন নেয় আসামি লিটন মিয়া। সেই জামিনেরও মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের অক্টোবরে। এসব তথ্য নথিভুক্ত করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রাখে নিম্ন আদালত। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও পরোয়ানা তামিল করেনি থানা পুলিশ। অথচ পুলিশের চোখে পলাতক এসব আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সদর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আসামি লিটন এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তিন দফা জামিন নিয়েছেন। সর্বশেষ জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি একবারও নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। অথচ প্রতিটি আদেশে মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া ছিল।
কুড়িগ্রামে সরকারপক্ষের আইনজীবী (পিপি) এসএম আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে একই মামলায় একাধিকবার জামিন নেওয়ার সুযোগ নেই। তথ্য গোপন রেখে জামিন নেওয়া এক ধরনের অপরাধ। আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হয়ে থাকলে পুলিশের উচিত দ্রুত গ্রেপ্তার করা।’