মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৩ ১৩:২১ পিএম
সুবল পাটনি
১৯৭১ সাল। স্বাধীনতাযুদ্ধের বছর। মুক্তিবাহিনীকে নদী পারাপার করায় বাবাকে ডেকে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্পে বেধড়ক পেটানো হয়। চোখের সামনে ১০টি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করল পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা। তখন আমার বয়স ১২ বছর, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। সবকিছু ভালোভাবে বুঝি। সেই দিনের স্মৃতি আজও কাঁদায়।
কথাগুলো বলতে গিয়ে অঝোরে কাঁদলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীর দুই পাড়ের ছোলমবাড়িয়া খেয়াখাটের টোল আদায়কারী সুবল পাটনি। দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল বিজয়স্তম্ভ নির্মাণের, এটি ২০ বছর আগে নির্মাণ হয়েছে।
পাকিস্তান আমল থেকেই ছোলমবাড়িয়া থেকে মোরেলগঞ্জ বন্দরের পানগুছির দুপাড়ে খেয়া পারাপারে প্রথম নৌকার মাঝি ছিলেন সুবলের বাবা মৃত কামিনী পাটনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় কামিনীর বয়স ছিল ৭৫ বছর।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্মৃতিচারণ করে সুবল পাটনি বলেন, ‘সে সময়ে এ ঘাটে হাতে গোনা ৮ থেকে ১০টি খেয়ানৌকা ছিল, মনে পড়ে শ্রবণ-ভাদ্র মাসের কোনো একদিন দিনভর প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে, ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে বাগেরহাট জেলা থেকে লঞ্চযোগে রাজাকার ছালাম খেয়াঘাটে লঞ্চ থামিয়ে আমার বৃদ্ধ বাবাকে নৌকাসহ বেঁধে নিয়ে গেল লঞ্চের সঙ্গে। রাজাকারদের অস্থায়ী ক্যাম্প সুকুমার সাহার দালানে। সেখানে তাকে বেধড়ক পেটানো হলো। সেদিন কোনোমতে গুলির হাত থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরলেন তিনি।
‘এর আগের দিন রাত ৯টার দিকে ছোলমবাড়িয়া ধোপাবাড়ির নারায়ণ চন্দ্র দাস, লক্ষ্মী দাস, নকুল দাস, অতুল দাস, কালু দাসেরসহ ১০টি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে লুটপাট করে নেয় রাজাকাররা। সে দিনগুলোর স্মৃতি আজও মনে পড়ে। যদিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে, সে আওতায় আসলে আমিও বিচার দাবি করি ওই ছালাম রাজাকারের। স্বাধীন দেশে বাংলার মাটিতে রাজাকারের বিচার দেখে যেতে চাই।’
তিনি বলেন, বাগেরহাট জেলা পরিষদের অনুদানে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ডা. মোজাম্মেল হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বাবুল, মো. শহিদুল ইসলামসহ বহু মানুষের সহযোগিতায় খেয়াখাটে ‘বীর বাঙালি’ বিজয়স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। পরে কোনোমতে রঙের কাজ হয়েছিল। বিজয়স্তম্ভটি এখন সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।