কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৩ ১৩:৩৯ পিএম
আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৩ ১৪:২৬ পিএম
বুধবার সকালে দেশে ফিরে যায় মিয়ানমার প্রতিনিধি দল। প্রবা ফটো
প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের পাঠানো তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই করতে আসা মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দেশে ফিরে গেছেন। তাদের এ সফরেও প্রত্যাবাসন নিয়ে কার্যত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
সাত দিনের সফর শেষে বুধবার (২২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের টেকনাফের জালিয়াপাড়া জেটি ঘাট হয়ে মিয়ানমারে ফিরে যান।
প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না– এ বিষয়টি নিয়ে কিছু বলছেন না কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।
শরণার্থী কমিশন সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সাত দিন টেকনাফে অবস্থান করেন। তারা প্রত্যাবাসন বিষয়ে কার্যত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই দেশে ফিরে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দ্দৌজা জানান, প্রতিনিধি দলটি সাত দিনে ৪৫০ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে।
সূত্র বলছেন, ১৪৯ পরিবারের ৪৪৯ জন রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল। এর মধ্যে ১৫ মার্চ ৪ পরিবারের ২৭ জন, ১৬ মার্চ ২৩ পরিবারের ৭৮ জন, ১৭ মার্চ ২৮ পরিবারের ৭৪ জন, ১৮ মার্চ ২৬ পরিবারের ৬৯ জন, ১৯ মার্চ ২৬ পরিবারের ৭৫ জন, ২০ মার্চ ২৬ পরিবারের ৮৬ জন ও ২১ মার্চ ১৬ পরিবারের ৪০ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে আলাপ করে প্রতিনিধি দলটি। টেকনাফ স্থলবন্দরের মালঞ্চ সম্মেলন কক্ষে চলে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ।
১৫ মার্চ কক্সবাজারের টেকনাফ হয়ে বাংলাদেশে আসে মিয়ানমারের ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দল। দেশটির মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের মংডুর আঞ্চলিক পরিচালক অং মাইউয়ের নেতৃত্বে আসা সদস্যদের পাঁচজন প্রাথমিক আলোচনা শেষে মিয়ানমার ফেরত গেলেও টেকনাফে ছিলেন ১৭ সদস্য।
তাদের এই সফর নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের টেকসই প্রত্যাবাসনের ‘উপযোগী নয়’। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ইউএনএইচসিআরের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় পাইলট প্রকল্পে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি গ্রুপের সঙ্গে দেখা করতে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশে সফর সম্পর্কে অবগত রয়েছে তারা। তবে ইউএনএইচসিআর এ আলোচনার সঙ্গে জড়িত নয়।
শরণার্থী কমিশনের তথ্যমতে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। মিয়ানমারকে ৮ লাখ ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে বেচে নেওয়া হয়েছে মাত্র ৬০ হাজারের মতো। তালিকা ধরে আগেও দুবার প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রোহিঙ্গাদের আপত্তিতে তা সম্ভব হয়নি।