পর্তুগালে দেয়ালচাপায় দুই বাংলাদেশি নিহত
সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৩ ২০:৩১ পিএম
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৩ ২১:২৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
পর্তুগালে স্থায়ী বসবাসের কার্ড পেলেই বাড়ি আসবেন; আগের রাতেই মাকে এমন কথা দিয়েছিলেন সুহেদ আহমদ। ওই সময় আসন্ন রমজানে এলাকার হতদরিদ্রদের সাহায্য-সহায়তায় টাকা পাঠানোর কথাও বলেছিলেন তিনি। তবে বৃদ্ধ মাকে কথা দেওয়ার পরদিনই মর্মান্তিকভাবে মারা গেলেন সুহেদ।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ মার্চ ) দুপুর ১২টার দিকে পর্তুগালের বেজা শহরে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করার সময় সুহেদসহ দুজন বাঙালি দেয়ালচাপায় পড়ে মারা যান। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তারা সুহেদের মৃত্যুর সংবাদ পান বলে জানান খালাত ভাই জয়নাল আহমদ।
এরপর থেকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের করগাঁও উজানপাড়া গ্রামে সুহেদের বাড়িতে চলছে মাতম। বৃদ্ধ মা নিরন্তর ছেলের জন্য বিলাপ করছেন।
জয়নাল বলেন, পর্তুগালপ্রবাসী একজন আত্মীয় তাদের দুর্ঘটনার বিষয়টি প্রথম জানান। পর্তুগালের কৃষি ও পর্যটন শহর হিসেবে পরিচিত বেজায় ক্রেন দিয়ে একটি ভবন ভাঙার কাজ চলছিল। এ সময় সুহেদসহ অনেক নির্মাণশ্রমিক উল্টো দিকে ছিলেন। হঠাৎ করে উল্টো দিকের দেয়াল ভেঙে অনেকে চাপা পড়েন।
আহতদের দ্রুত বেজা সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুহেদ ও শাহীন আহমদ নামের মৌলভীবাজারের আরেক প্রবাসীকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুহেদের ছোট ভাই শিপু আহমদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মায়ের সঙ্গে রবিবার রাতে শেষ ফোনে কথা বলেছিলেন সুহেদ। এ সময় জানিয়েছিলেন, মাস তিনেকের মধ্যে পর্তুগালের স্থায়ী বসবাসের কার্ড পেয়ে যাবেন। তখন বাড়ি আসবেন। পরিবারের অন্যদের পর্তুগালে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন। রমজানে গরিব-অসহায় মানুষকে দান করবেন বলেছিলেন। কিছুই হলো না।
সুহেদের স্বজনেরা জানান, ২০১৯ সালে তিনি প্রথমে দুবাইয়ে পাড়ি দেন। এরপর ইউরোপের কোনো দেশে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রোমানিয়া হয়ে পর্তুগাল যান। সেখানেই স্থায়ী হওয়ার স্বপ্নে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অনেক দৌড়ঝাঁপ করেন। পাশাপাশি কাজ শুরু করেন। গত রবিবার রাতে ফোনে মাকে তিন মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ সুহেদের বড় দুই ভাই দুবাইপ্রবাসী। সম্প্রতি অপর বড় ভাই ইতালি গেছেন। আর ছোট দুই ভাই দেশে মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে থাকেন।
সুহেদের মৃত্যুর খবর শুনে মঙ্গলবার সকাল থেকে এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজন তার গ্রামের বাড়িতে ভিড় করছেন।
সুহেদের ছোট ভাই শিপু বলেন, বর্তমানে সুহেদের মরদেহ বেজায়ে সেন্ট্রাল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, শুনেছি মরদেহ দেশে পাঠানো ও জরুরি করণীয় নিয়ে টেস্ট অব লিসবনে বাংলাদেশি কমিউনিটি সভা আহ্বান করেছে। জীবিত না এলেও মরদেহ যেন দেশে ফিরে আসে, পরিবারের সবার এখন এটাই প্রত্যাশা।