× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণ

মামলার অগ্রগতি নেই তিন মাসেও

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৯:২৭ পিএম

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৩৪ পিএম

মামলার অগ্রগতি নেই তিন মাসেও

গত ৫ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে ৫০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তিন মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। উপরন্তু কন্টেইনার ডিপোর আংশিক চালু করা হয়েছে। এতে ভুক্তভোগীসহ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

মামলার অগ্রগতির বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, এ মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কাউকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। তবে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিপো থেকে সংগৃহীত মামলার আলামতে বিস্ফোরকের কোনো নমুনা মেলেনি। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে থাকা নিহত ১৪ জনের লাশের ডিএনএ প্রতিবেদন না আসায় স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা যায়নি। প্রতিবেদন পেলে লাশগুলো হস্তান্তর করা যাবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৫ জুন রাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর ঘণ্টাখানেক পর হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর থেমে থেমে অনেক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ১৩ কর্মী নিখোঁজ হন। 

পরদিন সকাল থেকে তিন দিন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ১০ কর্মীসহ ৫০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন দুই শতাধিক মানুষ। ৭ জুন সীতাকুণ্ড থানায় ডিপোর মালিকপক্ষকে বাদ দিয়ে ৮ কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন, ডিপোর মহাব্যবস্থাপক নাজমুল আক্তার খান, উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) নুরুল আক্তার খান, ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) খালেদুর রহমান, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্বাস উল্লাহ, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী (প্রশাসন) নাসির উদ্দিন, সহকারী ব্যবস্থাপক আবদুল আজিজ, ডিপোর শেড ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম ও সহকারী ডিপো ইনচার্জ নজরুল ইসলাম। তাদের অনেকেই আহত হয়ে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম কাস্টমস, চট্টগ্রাম বন্দর, ফায়ার সার্ভিসসহ সাতটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় তারা কন্টেইনার ডিপোতে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড বিস্ফোরণের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। 

এরপর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি বিএম কন্টেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে প্রতিবেদন দেয়। একইভাবে বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে প্রতিবেদন দেয় চট্টগ্রাম কাস্টমসও। এরপরও এ ঘটনায় করা মামলায় কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম দুলাল বলেন, বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় আমাদের ১০ জন কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের ডিএনএর নমুনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ জন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আহত হয়েছেন। কিন্তু আমাদের ফায়ার বিভাগ থেকে এখনও কোনো মামলা হয়নি। একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদনও এখনও জমা হয়নি। এটা রহস্যজনক। 

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক নিউটন দাস বলেন, বিএম ডিপোর দুর্ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয় থেকে। তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষ হলে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে এরই মধ্যে কোনোরকম প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছাড়াই বিএম কন্টেইনার ডিপো আংশিক চালু করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা বলেন, কাস্টমসের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বিএম কন্টেইনার ডিপোকে দায়ী করা হয়েছে। তবে কাস্টমসের অনুমতি সাপেক্ষে গত ২২ আগস্ট থেকে কন্টেইনার ডিপোটি আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো জিনিস সরিয়ে নিলে সেটি পুনরায় চালু করা যাবে।

প্রবা/আরএম/এমজে

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা