× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জুনেই চালু হচ্ছে মোংলা বন্দরের রেলসেবা

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৩ ১৩:৩৬ পিএম

ট্রেন চালুর অপেক্ষায় খুলনা- মোংলা রেলপথ। প্রবা ফটো

ট্রেন চালুর অপেক্ষায় খুলনা- মোংলা রেলপথ। প্রবা ফটো

চলতি বছরের জুনের মধ্যে মোংলা বন্দর রেলসেবার আওতায় চলে আসবে। এতে পণ্য ও পর্যটন পরিবহনে খুলে যাবে নতুন দ্বার। ইতোমধ্যে খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ৯৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আর চলতি বছরের জুনের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠা হওয়ার দীর্ঘ ৭৩ বছর পর রেলপথ যুক্ত হচ্ছে। রেলসেবা চালু হলে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হবে। রেলপথ না থাকায় এতদিন মোংলা বন্দরে বড় বড় কন্টেইনার পরিবহনের সমস্যা হতো। এবার সুন্দরবন এলাকার পর্যটক পরিবহনেও রেলসেবার সুবিধা পাওয়া যাবে।

বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী এইচ এম দুলাল, মশিউর রহমান ও ইকবাল হোসেন জানান, মোংলা দেশের অন্যতম সমুদ্রবন্দর হলেও এতদিন এখানে কোনো রেলসংযোগ ছিল না। ফলে বন্দরটিতে বিভিন্ন দেশের বড় মালবাহী জাহাজ ভিড়তে আগ্রহ দেখাত না। সব বড় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা হতো। তারা আরও জানান, মোংলা বন্দরকে রেলসেবার আওতায় আনতে ইতঃপূর্বে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের আর্থিক সমৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে ভারত, নেপাল ও ভুটানসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মোংলা বন্দরকে রেলসেবার আওতায় আনা হচ্ছে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বিগত ২০১০ সালে অনুমোদন করে। প্রকল্পটি তিনটি ভাগে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার মধ্যে প্যাকেজ-১ রেললাইন নির্মাণ, প্যাকেজ-২ রূপসা নদীর ওপর রেলসেতু ও প্যাকেজ-৩ টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং সিস্টেম। এসব প্রকল্পের আওতায় মূল লাইনসহ রেলওয়ে ট্রাকের দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ। আর রূপসা নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রূপসা রেলসেতু। ইতোমধ্যে ওই সেতুর কাজ প্রায় শতভাগ শেষ হয়েছে। তা ছাড়া ৩১টি ছোট সেতুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে। আর ১০৭টি কালভার্টের মধ্যে ১০৫টির কাজ শেষ হয়েছে। ৯টি ভিইউপির নির্মাণ কাজ এবং ২৯ এলসি গেটের ২৬টি কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ৭টি স্টেশন বিল্ডিংয়ের মধ্যে ফুলতলা, আড়ংঘাটা ও মোহাম্মদ নগরের কাজও শেষ হয়েছে। বাকি ৫টি স্টেশনের মধ্যে কাটাখালি ৮০ শতাংশ, চুলকাঠি ৭ শতাংশ, ভাগা ৭২ শতাংশ, দিগরাজ ৯৮ শতাংশ ও মোংলা স্টেশন নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রেলপথটি চালু হলে মোংলা বন্দরসহ পুরো এলাকায় অনেক পরিবর্তন আসবে বলে জানা গেছে।

নির্মাণাধীন রেললাইন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ গত বছরের ডিসেম্বরে ৯৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে পুরো রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দফায় ডিপিপি সংশোধনের পর প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। তার মধ্যে ভারতীয় লোন রয়েছে ২ হাজার ৯৪৮ কোটি ১ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা। বাকি ১ হাজার ৩১২ কোটি ৮৬ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকার সরকারি ফান্ড থেকে ব্যয় করা হবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু হলে সড়ক পথে পণ্য পরিবহন চাপ কমে যাবে। এ ছাড়া পণ্য পরিবহন ব্যয় ও সময় অনেক কমবে। পাশাপাশি মোংলা বন্দরে একই সঙ্গে নৌ, সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের পণ্য পরিবহন অনেকটা সহজ হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা