পানির কষ্টে মাহালী সম্প্রদায়
রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৩ ১৭:৫৩ পিএম
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৩ ১৮:০৮ পিএম
পানির সংকট থেকে মুক্তি পেতে রাজশাহী নগরীর জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন করেছে মাহালী সম্প্রদায়ের লোকজন। প্রবা ফটো
রাজশাহীর বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌরসভায় কয়েকশ মাহালী পরিবারের বাস। এখানকার মাহালীপাড়ায় সমতলের জনজাতি এ সম্প্রদায়ের মানুষগুলো রয়েছে তীব্র পানির সংকটে। খাবার, গৃহস্থালি কাজে পানি মিলছে না কোথাও। তাদের খাবার পানি সংগ্রহের জন্য কয়েক কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারীরা দূর-দূরান্ত থেকে পানি আনতে গিয়ে গর্ভপাতের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি সেচের পানির অভাবে কৃষিজমিগুলোও ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
পানির এ সংকট থেকে মুক্তি পেতে বুধবার (১৫ মার্চ) রাস্তায় নেমেছে মাহালী সম্প্রদায়ের লোকজন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী নগরীর জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন করেছে তারা। ‘জিউহ বানচাও লাগিতে দ্যা হাতোই আলে—জীবন বাঁচাতে পানি চাই’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা মাহালীপাড়াসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। মাহালীপাড়া বাঁশ-বেত উন্নয়ন সংগঠন, বরেন্দ্র অঞ্চল যুব সংগঠন ফোরাম ও বারসিক এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে মাহালী সম্প্রদায়ের রিনা টুডু বলেন, ‘ভূগর্ভের পানির স্তর নেমে যাওয়ায় এলাকার টিউবওয়েল বা গভীর নলকূপে পানি ওঠে না। এক কলস পানির জন্য আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। অনেকের তিরস্কার সহ্য করতে হয়। বাসার শিশু ও নারীদের দিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে পানি আনতে হয়। পানির দুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বমহলে বলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এজন্য বাধ্য হয়ে আমরা আজ রাস্তায় নেমেছি।’
জুসফিনা হেমব্রম বলেন, ‘মাহালী সম্প্রদায়ের ৫০টি পরিবারের বসবাস পাঁচন্দর মাহালীপাড়ায়। আমাদের প্রধান পেশা বাঁশ ও বেতের কাজ। পানি সংকটের কারণে অনেকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। মাহালীপাড়ার অদূরে শাহিন ফিলিং স্টেশন থেকে পানি আনতে হয়। তা-ও এক কলসের বেশি না। সব সময় সেই পানিও পাওয়া যায় না।’
আগস্তিনা মুরমু বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে পানিসংকট বহু পুরোনো। তবে ২০১৮ সাল থেকে খাবার পানি নিয়ে নতুন করে সংকট দেখা দেয়। এখানে ডিপ টিউবওয়েলগুলোতে আর পানি ওঠে না। সেচের পানির অভাবে এখন এলাকার জমিতে আর কেই কৃষিকাজ করতে সাহস পায় না। ভোটের সময় নেতারা আসেন। অথচ আমাদের কষ্ট সমাধানে কাউকেই পাশে পাই না।’ মানববন্ধন শেষে মাহালী সম্প্রদায়ের লোকজন জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে পানি সমস্যা সমাধানে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন।
মাহালীপাড়ার পানির সংকট নিয়ে মুণ্ডুমালা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম রাব্বানি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মাহালী এলাকা ও এর আশপাশের কিছু এলাকায় পানি নিয়ে সংকট বহু পুরোনো। আমি মেয়র থাকাকালীন ১৫০টি ডিপ মেশিন বসিয়েছিলাম। এখন সেগুলোতেও আর পানি উঠছে না। তবে মুণ্ডুমালা সদরের দিকে পানির স্তর আছে। আমরা বিভিন্ন মহলকে জানিয়েছি, মুণ্ডুমালা থেকে পানি তুলে পাইপলাইনের মাধ্যমে সমস্যাপীড়িত এলাকায় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হোক।’
এ প্রসঙ্গে মুণ্ডুমালা পৌরসভার বর্তমান মেয়র মো. সাইদুর রহমান গ্রামবাসীর দাবির ও কষ্টের বিষয়ে অবগত উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা সবাই চাই ওই এলাকার পানির কষ্ট দূর হোক। এজন্য আমি নির্বাচিত হয়ে মাহালী গ্রাম ও এর আশপাশে নতুন করে আরও সাতটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করি। কিছুদিন ভালোই ছিল। এরপর আর পানি ওঠে না। পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এখন সেখানে পানি নিশ্চিত করতে হলে আশপাশে যে এলাকায় পানি আছে, সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মাহালী গ্রামে পানি সরবরাহ করতে হবে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি এবং সমস্যার সমাধানে কাজ করছি।’