নীলফামারী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৩ ১৩:০৪ পিএম
নীলফামারীর জেনারেল হাসপাতালে ফিল্ম সংকটে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে সুবিধা। ফলে বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। প্রবা ফটো
নীলফামারীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা এক্স-রে সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে জেলা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে এক্স-রে করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। তাদের স্বজনদের অভিযোগ, এক্স-রের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার পাশাপাশি বাইরে থেকেও ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১ মার্চ থেকে হাসপাতালে এক্স-রে ফিল্মের সংকট দেখা দেয়। ফিল্ম সংগ্রহের জন্য গত এক মাস আগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু তা সরবরাহে কোনো ধরনের নিশ্চিয়তা নেই। কবে সরবরাহ করা হবে তাও নিশ্চিত নয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
নীলফামারী সদরের বড় সংগলশী গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছেন বাবুল ইসলাম। তিনি বলেন, বুকের ব্যথা নিয়ে তিন দিন আগে ভর্তি হয়েছি। ডাক্তার বুকের এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় তাদের কাছে ফিল্ম নেই, বাইরে গিয়ে এক্স-রে করে নিয়ে আসতে হবে। বাধ্য হয়ে ৭০০ টাকা দিয়ে এক্স-রে করে আনি। তিনি আরও বলেন, অনেককে বলতে শুনেছি টাকার অভাবে এক্স-রে করাতে পারছেন না।
পৌর শহরের শফিকুল ইসলাম বলেন, কোমর ব্যথার চিকিৎসার জন্য দুদিন হলো ভর্তি হয়েছি। ডাক্তার এক্স-রে করতে বলে গেছেন। কিন্তু হাসপাতালে নাকি এক্স-রে হয় না। তাই ছেলের সাথে বাইরে গিয়ে ৬৫০ টাকা দিয়ে এক্স-রে করে এলাম। আমাদের মতো গরিব মানুষ কম পয়সায় চিকিৎসা করতে এসে লাভ হলো না।
জেলা শহরের মাস্টারপাড়া থেকে আসা তুহিন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় কোমরে ব্যথা পেয়েছি। চিকিৎসক এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে এক্স-রে বন্ধ রয়েছে। বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এক্স-রে করতে হয়েছে। এই হাসপাতালে সঠিক সেবা নেই, এসব দেখারও কেউ নেই।
হাসপাতালের স্টোরকিপার খোরশেদ আলম জানান, এজিথ্রোমাইসিন, ট্যাবলেট বেকলো, টোফেন, ইউডেন প্লাস, জেন্টামাইসিন, মক্সিন ইনজেকশন, অমিপ্রজল ইনজেকশন, ডাইক্লোফেনাক বড়িসহ অনেকগুলো জরুরি ওষুধের সরবারহ নেই।
জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও রেডিওগ্রাফি অপারেটর মো. নূরুজ্জামান সরকার জানান, হাসপাতালে প্রকারভেদে প্রতিটি এক্স-রে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। কিন্তু ফিল্মের সংকটে হাসপাতালে রোগীরা এক্স-রে করা নিয়ে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন। এর জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চেষ্টা করে আগাম এসব এক্স-রে ফিল্ম কিনতে পারেন। কিন্তু উনি তা করবেন না। হাসপাতালে এক্স-রে বন্ধ থাকায় বেসরকারি ক্লিনিকের মালিকরা জমজমাট ব্যবসা করছেন। অন্যদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জহিরুল করিম বলেন, এক্স-রে ফিল্ম সংকট আছে কি না জানি না। আমি সিনিয়র মানুষ তাই হাসপাতালের বিভিন্ন কাজ নিয়ে আমাকে প্রায়ই ঢাকায় থাকতে হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে- তার বাড়ি ঢাকায়, এজন্য তিনি বিভিন্ন অজুহাতে ছুটি ভোগ করেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু আল হাজ্জাজ জানান, এক্স-রে ফিল্মের জন্য এক মাস আগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু এখনও অনুমোদন পাইনি। রোগীরা বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে এক্স-রে করাচ্ছেন। এটা নিয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।