বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৯:০৩ পিএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ২০:২৪ পিএম
উচ্ছেদের নামে শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। প্রবা ফটো
বরগুনার সদরের খেজুরতলা গ্রামের সোনালী পাড়া এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুরে এই অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। কর্মসূচি থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি উঠেছে।
মানববন্ধনে রহিমা বেগম বলেন, ‘সাড়ে আট শতক জমির ওপর মাত্র ছয়টি ঘর উচ্ছেদে আদালতের আদেশ থাকলেও নাজির ফারুক আহাম্মেদের নেতৃত্বে পুলিশ ও দুই শতাধিক দুর্বৃত্ত অর্ধশত ঘর ভেঙে ফেলে। দুপুরে স্টে অর্ডার হওয়ায় নাজির ফারুক পুলিশ নিয়ে ফিরে গেলেও দুর্বৃত্তরা সন্ধ্যা পর্যন্ত তাণ্ডব চালিয়ে শতাধিক বসত ঘর ভেঙে দেয়। পিলার এমনভাবে ভেঙেছে যে সেগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হবে। টাকা পয়সা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে তারা। পাশাপাশি লাঞ্ছিত করেছে বৃদ্ধ ও শিশুদের। মায়ের কোল থেকে টেনে নিয়ে শিশুকে পর্যন্ত ছুঁড়ে মেরেছে।’
তিনি বলেন, ‘সব হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। আমাদের এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই। আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। ১২ জনের নামে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আসামির মধ্যে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
নাজির ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘সহকারী জজ মহোদয় ফোন করে স্টে হওয়ার কথা জানান। কার্যক্রম বন্ধ করে চলে আসতে বললে আমরা ৩টার দিকে চলে আসি। এ সময় বাদী পক্ষকে আর ভাঙচুর না করতে বলে আসি। তখন তাদের শতাধিক কর্মী ছিল।’
আবু জাফর বলেন, ‘উচ্ছেদকালে নিজেদের লোকজন থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। তবে আমাদের কোনো লোকজন কোথাও কোনো লুটপাট কিংবা ভাঙচুর করেনি। এগুলো সত্য নয়, তারা হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। শুধু শুধু আমার ভাগিনা সোহাগকে পুলিশ ধরেছে।’
গত ৭ মার্চ বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের সোনালীপাড়া এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। ৯ মার্চ ওই এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করে। গ্রেপ্তার সোহাগ মামলার ১নম্বর আসামি।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, খেজুরতলা গ্রামে কেনা জমিতে শতাধিক ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিল তিন শতাধিক পরিবার। কিন্তু আবু জাফর গংদের করা একটি মামলায় রহিমা বেগম গংদের বিরুদ্ধে একতরফা রায় হয়। আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে দখল বুঝিয়ে দিতে উচ্ছেদ অভিযানের নির্দেশ দেয় বরগুনার সহকারী জজ আদালত। আদালতের নির্দেশে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির ফারুক আহম্মেদের নেতৃত্বে পুলিশ ও মামলার বাদী পক্ষের শতাধিক উচ্ছেদকর্মী অভিযান পরিচালনা করে।
তবে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালেই ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অভিযান স্থগিত করার আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে নাজির ফারুক আহম্মেদ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে চলে এলেও বাদী পক্ষ দুর্বৃত্তদের সহযোগিতায় সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাপক ভাঙচুর করার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়।