প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৩:৩২ পিএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৪:০৬ পিএম
চার মাস পর বালিচাপা দেওয়া কঙ্কাল পাওয়া যায় গৃহবধূ লামিয়া আক্তারের। ছবি : সংগৃহীত
নিখোঁজের চার মাস পর বাড়িতে ঢিল থেকে পড়া এক চিরকুটের সূত্র ধরে পিরোজপুরের নাজিরপুরে বালিচাপা অবস্থায় এক গৃহবধূর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গৃহবধূর খালাশাশুড়ি রেকসোনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে রেকসোনাকে সদর উপজেলার দুর্গাপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে জানিয়েছেন নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির।
গ্রেপ্তার রেকসোনা বেগম নিহত লামিয়া আক্তারের খালাশাশুড়ি ও সদর উপজেলার ভৈরবপুর এলাকার আলমের স্ত্রী।
নাজিরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘একটি চিরকুট পাওয়ার পর বালিচাপা অবস্থায় একটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। সেই চিরকুটে তরিকুল ইসলামের মেজো খালা রেকসোনা বেগমের নাম লেখা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তবে চিরকুট কে ফেলেছে সে বিষয়েও তারা খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানান ওসি।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাজিরপুরের চিথলিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের সঙ্গে লামিয়া আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে তাদের বিয়ে হয় গত বছরের ৫ মে। ডিসেম্বরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন লামিয়া। নিখোঁজের পর মামলা হলে তরিকুলের বাবা মিজান ও প্রতিবেশী বাদশা শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সবশেষ রবিবার রাতে লামিয়ার ব্যাপারে একটি চিরকুট পৌঁছায় তার পরিবারের কাছে। এ চিরকুটের সূত্র ধরে সোমবার দুপুরে লামিয়ার বালিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে এ ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। আমরা পরে তরিকুলের বাবা ও এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। সোমবার মেয়ের বাড়িতে কে যেন ঢিল ছোড়ে। তার সঙ্গে একটি চিরকুট পান পরিবারের সদস্যরা। সেই চিরকুটের সূত্র ধরে আমরা অভিযান চালাই ও মরদেহ উদ্ধার করি।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা ঢিল থেকে একটি চিরকুট পড়তে দেখলেও কে ছুড়েছে তা দেখতে পাননি।
গ্রেপ্তার রেকসোনা বেগমকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান ওসি।