ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৩ ০৯:৪৫ এএম
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৩ ২০:৫০ পিএম
মুরগির দোকানে শূণ্য খাঁচার সামনে বিষণ্নভাবে দাঁড়িয়ে আছেন পোল্ট্রী ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ। প্রবা ফটো
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার হাট-বাজার ব্রয়লার মুরগি শূন্য হয়ে পড়েছে। বাজারে ব্রয়লার, সোনালি, কক, লেয়ারসহ কোনো জাতের মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না।
শনি ও মঙ্গলবারে শৈলকুপায় সাপ্তাহিক হাট বসে। এ দুদিন সকাল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় থাকে সব ধরনের দোকানে। তবে গতকাল শনিবার শৈলকুপার নতুন বাজারে হাট চান্দিনায় মুরগি কেনাবেচার জায়গাতে ছিল নীরবতা।
বাজারের ৮ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র দুজনের কাছে ৫০টির মতো ব্রয়লার মুরগি দেখা গেছে। বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে। বাকি সব দোকান মুরগি শূন্য।
বাজারের সবচেয়ে বড় মুরগি ব্যবসায়ী জিহাদ রানা জানান, প্রতি হাটে তার কাছে অন্তত ১ হাজার মুরগির চাহিদা থাকে। গত সপ্তাহ থেকে শৈলকুপার বিভিন্ন ফার্ম ও জেলা সদরের ফার্মে চাহিদা মতো মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, মুরগির খাবার ও বাচ্চার দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় ফার্মগুলোতে মুরগি একেবারেই কমে গেছে, বাজারে যার প্রভাব পড়ছে। আব্দুর রশিদ একেবারেই ফাঁকা খাঁচা সামনে নিয়ে বসে আছেন।
তিনি জানান, গত দু-সপ্তাহ ধরে কোথাও মুরগি পাচ্ছেন না। সাপ্তাহিক হাটে তার দোকানে কমপক্ষে ৫০০ মুরগির চাহিদা থাকে।
ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, তার কাছে ৪০০ মুরগির চাহিদা থাকলেও শনিবার মাত্র একশ পিস ব্রয়লার মুরগি পেয়েছেন তিনি। অন্য কোনো জাতের মুরগি একেবারেই মিলছে না।
এদিকে অনেক ক্রেতা বাজারে এসে খালি হাতে ফিরে গেছেন। ক্রেতা বেনজির হোসেন জানান, বাজারে মুরগি কিনতে এসে হতাশ হয়েছেন তিনি। পুরো বাজারে শুধু ব্রয়লার মুরগি আছে দু-একটি।
বাজারের পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য শৈলকুপার গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মুরগির খামারে বাচ্চার সংকট দেখা দিয়েছে। ফার্মে পর্যাপ্ত বাচ্চা পালন করা হচ্ছে না। বাচ্চা উৎপাদন কম হওয়ায় খামারগুলোতে মুরগি মিলছে না।
শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন খান জানান, বাজারে মুরগি সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এই সংকট বেশি দিনের জন্য নয়। সাধারণত শীতের শেষের দিকে খামারিরা বাচ্চা তুলতে অনীহা দেখায়। এ সময়ে রাণীক্ষেত রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা খামারে বাচ্চা আনে না।
তা ছাড়া অনেক চতুর ব্যবসায়ী রমজান সামনে রেখে মুরগি বেশি দামে বিক্রি করার জন্য বাচ্চা প্রস্তুত করছে। ফলে এই কয়েক দিনের জন্য এমন সংকট হতে পারে। খাদ্যের চড়া দাম ও বাচ্চা মিলছে না এসব খামারিদের অজুহাত মাত্র।