নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৩ ০১:১০ এএম
আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৩ ১০:৫৯ এএম
সংগৃহীত ফটো
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ছিনতাই ও অপহরণের সময় ডেমরা থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তার পুলিশের ওই এসআইয়ের কাছ থেকে সরকারি পিস্তল, হ্যান্ডকাফসহ ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার করে আড়াইহাজার থানা পুলিশ। শুক্রবার (১০ মার্চ) ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ী মো. সজীব আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন।
রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। আমাদের তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। এখনও এজাহারের কপি পাইনি। পেলে তদন্ত শুরু করব।’
গ্রেপ্তাররা হলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা ও ডেমরা থানার এসআই মোজাম্মেল হক, রূপগঞ্জের ভুলতার আতিকুর রহমান ওরফে সোহেল, হালিম মিয়া ও বিজয়।
ভুক্তভোগী সজীবের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সজীব ও তার বন্ধু রাসেল মিয়া রূপগঞ্জের গাউছিয়া থেকে সিএনজিযোগে বাড়ি আড়াইহাজারের প্রভাকরদী আসছিলেন। পথে সজীব তার মামা সবুজের সঙ্গে দেখা করতে প্রভাকরদী বাজারসংলগ্ন আবদুর রউফের ভাঙারি দোকানের সামনে কাশবনের মাঠে নামেন। সেখানে এসআই মোজাম্মেলসহ কয়েকজন তাদের ঘিরে ফেলেন। এসআই মোজাম্মেল তার কাছে থাকা পিস্তল বের করে পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন এবং সজীব ও তার বন্ধু রাসেলকে হাতকড়া পরান। ওই সময় মোজাম্মেলের সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা নিজেদের পুলিশের কনস্টেবল পরিচয় দেন। পরে সজীবের ৮২ হাজার ৫০০, তার বন্ধু রাসেলের ৩৫ হাজার এবং দুজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন আসামিরা।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে আসামিরা তাদের হাতকড়া পরানো অবস্থায় কাশবনের মাঠ থেকে রাস্তায় এনে জোর করে সিএনজিতে ওঠানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আড়াইহাজার থানার এএসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে টহল পুলিশের নজরে আসে। এএসআই নুরে আলম আসামিদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে তাদের থানায় নেওয়া হয়।
আসামিদের কাছ থেকে পুলিশ ৮ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি নাইন এমএম পিস্তল (সিরিয়াল নম্বর টি-১০৬৮৮৬৯), এক জোড়া হ্যান্ডকাফ এবং ছিনতাইকৃত টাকার মধ্যে ১০ হাজার উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত টাকা ছিনতাইয়ের বলে আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন।
এদিকে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল ডেমরা থানার এসআই বলে নিশ্চিত করেছেন ডেমরা থানার ওসি শফিকুর রহমান। তবে অন্য তিন আসামি তার থানার কনস্টেবল নন বলে জানান তিনি।