× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লবণপানিতে নষ্ট হচ্ছে ধান

বাগেরহাট প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৩ ১৬:৫৩ পিএম

 বাগেরহাটের রামপালে খালের বাঁধ কেটে লবণপানি ঢোকাচ্ছে কয়েকজন। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

বাগেরহাটের রামপালে খালের বাঁধ কেটে লবণপানি ঢোকাচ্ছে কয়েকজন। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

বাগেরহাটের রামপালে খালে লবণপানি ঢোকানোর কারণে পেড়িখালী ও রাজনগর ইউনিয়নের দুই শতাধিক ধানচাষি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রভাবশালী ঘের মালিকরা খাল কেটে ধানের জমিতে এই লবণপানি প্রবেশ করাচ্ছেন বলে অভিযোগ কৃষকদের।

ইরি মৌসুমে কিছু নদী ও খাল বাঁধ দিয়ে আটকে ও পানি সংস্কার করে ধান চাষ করেছিলেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, চিংড়ি চাষের জন্য ওঠানো লবণপানিতে পচে যাচ্ছে তাদের কষ্টের ফসল। ফলে অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১৫ থেকে ২০ দিন পরে পানি প্রবেশ করালে ধানের ক্ষতি হতো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে এ নিয়ে আবেদন করেও কোনো সুফল পাননি ভুক্তভোগী কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সকালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে থেকে যাওয়া কালেখারবেড় এলাকার ঘরের খালের বাঁধ কেটে মৎস্য ঘেরে পানি ঢুকিয়েছেন জুলু হাজীসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কয়েক দিনের মধ্যে এসব ধানের গোড়া পচে নষ্ট হয়ে যাবে মনে করছেন কৃষকরা। 

শুধু কালেখারবেড় নয়, রাজনগর ইউনিয়নের সিংগুরবুনিয়া, রনজয়পুর ও আড়ুয়াডঙ্গা এলাকায়ও একইভাবে ধান চাষ করা হয়েছে। সেখানেও হানা দিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

কালেখারবেড় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সবিতা হাওলাদার বলেন, গরু বিক্রি করে এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ছয় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ১৫-২০ দিন পর ধান ঘরে তুলতে পারতাম। প্রভাবশালীরা বাঁধ কেটে দেওয়ায় লবণপানি ঢুকে ধানগাছ মরে যাচ্ছে। অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেনি।

একই গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। তখন লবণপানি ঠেকাতে সবার সম্মতি নিয়ে কালেখার খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। 

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, হঠাৎ করে ঘেরে লবণপানি নিতে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাঁধটি কেটে দেন। কাটার আগে চেয়ারম্যান, কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওকে বিষয়টি জানিয়েছেন। ধান কেটে ঘুরে তোলার জন্য মাত্র ১৫ দিন সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি।

রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা পারভীন বলেন, ধান চাষের জন্য সব কৃষক একমত হয়ে খাল আটকে ধান চাষ শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ কিছু ঘের ব্যবসায়ী পানি ঢুকিয়ে মাছ চাষ করতে চান। এ কারণে মাছচাষিরা বাঁধটি কেটে দিয়েছেন। মানবিক কারণে চাষিদের ১৫ দিন সময় দেওয়া উচিত ছিল।

রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম বলেন, কাউকে সরকারি খাল আটকে রাখার অনুমতি দিতে পারি না। তবে ঘের ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধানের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা সমাধান করবেন।

এ ছাড়া খাল না আটকে অন্য কোনোভাবে ধান চাষ করা যায় কি না, সে বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করার পরামর্শ দেন নাজিবুল আলম।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা