লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৩ ১২:৩৯ পিএম
লক্ষ্মীপুরে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ভিক্ষুকের কোলে রেখে যাওয়া তিন মাসের সেই শিশু ৫ দিন পর তার মায়ের কোলে ফিরেছে। সোমবার (৬ মার্চ) বিকালে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে শিশুটির মাকে সতর্ক করেন বিচারক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এই সতর্কতা।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) রাতে জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মাকে বুঝিয়ে দেন।
আইনজীবী মাহমুদুল হক সুজন বলেন, রোববার (৫ মার্চ) শিশুটিকে ফিরে পেতে তার মা সুরমা বেগম লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। কিন্তু আদালত প্রথম দিন কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। সোমবার আদালত শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
শিশুটি গেল পাঁচ দিন নিঃসন্তান দম্পতি বেলাল হোসেন ও নিশি আক্তারের কাছে ছিল। তারা শিশুটিকে আদর-যত্নে বড় করতে চেয়েছিলেন। প্রথম যেদিন শিশুটিকে পরিবারের লোকজন নিতে থানায় এসেছিল, কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন ওই দম্পতি। মায়া জমলেও এখন শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন তারা। বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত হলেও শিশুটির জন্য ভালোবাসা ও তার মঙ্গল কামনায় সবসময় দোয়া করবেন বলে জানিয়েছেন বেলাল।
জেলা পুলিশ সূত্র বলছে, সুরমার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ চরমনসা গ্রামের মিয়ারবেড়ি এলাকায়। বুধবার (১ মার্চ) দুপুরে শিশুটিকে ভিক্ষুক সালমা বেগমের কাছে রেখে চলে যান তিনি। সালমার কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন মাহমুদের ভাই বেলালের পরিবারের হেফাজতে রাখা হয়। পরদিন বেলাল ও তার স্ত্রী নিশি আক্তার আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে দত্তক নেন। তবে শিশুটির পরিবারের খোঁজ পেলে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা ছিল আদালতের। ফেসবুকের মাধ্যমে শিশুটির খোঁজ পেয়ে একইদিন রাতে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে নেওয়ার জন্য সদর থানায় উপস্থিত হন। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিক শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া যায়নি। এতে আদালতের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করেছে পুলিশ। এ পাঁচ দিন শিশুটি বেলাল-নিশির আদর যত্নেই ছিল।
সুরমা বেগম জানিয়েছেন, প্রতিমাসে ১১ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু তার স্বামী মিরন কয়েক মাস থেকে সংসার খরচ দিচ্ছে না। এনিয়ে ঘটনার দিন স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ধার-দেনায় তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এতে দুঃশ্চিন্তা থেকে তিনি শিশুটিকে ফেলে রেখে চলে যান। বাড়িতে গেলে পরিবারের লোকজনের বকাঝকায় শিশুটিকে খুঁজতে থাকেন। পরদিন ফেসবুকের মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান পান। আর কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটাবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, ‘ফেলে রেখে যাওয়া শিশুটি অবশেষে তার মায়ের কোলে ফিরেছে। ফুটফুটে শিশুটির হাসি খুব মধুর। আমি নিজেই মায়ায় পড়ে গেছি। আজীবন তার প্রতি একটি অনুভব থেকে যাবে।’
মিরন-সুরমা দম্পতির সংসারে আরও ৩ সন্তান রয়েছে। তারা লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।