লালন স্মরণোৎসব
কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৩ ০১:০৩ এএম
লালন স্মরণোৎসবের ভক্তের গান। প্রবা ফটো
বিনা সুতায় বাঁধা হৃদয়ের টানে ছুটে এসেছিলেন তারা ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে। ভাবতত্ত্বে মোহিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আত্মাকে মোহমুক্ত করতে। স্রষ্টার নৈকট্য পেতে। মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দুপুরে পূর্ণ সেবা শেষে বাড়ি ফিরবেন প্রকৃত লালন অনুসারী বা ভেকধারী বাউলরা। তাদের যোগ সমাপ্তির মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের লালন স্মরণোৎসবের।
সরকারিভাবে অবশ্য এ আয়োজন সোমবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায়ই শেষ হয়েছে। শুরুও হয়েছিল এক দিন আগে। এমন হওয়ার কারণ সম্পর্কে লালন একাডেমির সদস্য জাহিদ হোসেন জানালেন, শবেবরাতের কথা মাথায় রেখে এবার গানের অনুষ্ঠান এক দিন এগিয়ে এনে অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে মূল আয়োজন শেষ হয়ে হলেও ফকিররা পূর্ণ সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।
আয়োজনের ক্ষেত্রে এমন ছন্দপতনের সমালোচনা করছেন লালনভক্ত বাউল-সাধুরা। তারা বলছেন, দোল তিথি অনুযায়ী বাউল, সাধু ও ভক্তবৃন্দের অধিবাস শুরুই হবে সোমবার (গতকাল) বিকেলে। মঙ্গলবার (আজ) ভোরে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে শেষ হবে সাধুদের স্মরণোৎসব।
গতকাল সোমবার আখড়াবাড়িতে দেখা গেছে, সকালেই অনেক বাউল, সাধু ও ভক্ত পরিবারসহ বাড়ির দিকে রওনা হন। অনেকে তল্পিতল্পাসহ চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার ভেকধারী বাউলরা অবস্থান নিয়েছেন মাজার চত্বর ও মাঠে। পূর্ণিমা তিথি অনুযায়ী গতকাল রাতের মূল অধিবাস পালনের পর আজ দুপুরে পূর্ণ সেবা নিয়ে তবেই বাড়ি ফিরবেন তারা। চত্বর ও মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে তাদের অনেকেই দরাজ গলায় সাঁইজির বাণী গাইছেন অবিরাম।
আখড়াবাড়িতে অবস্থান নেয়া প্রবীণ সাধু নহির ফকির জানান, ফকির লালন সাঁইজি নিজেকে দীনহীন কাঙাল ভেবে মানুষকেই সবার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। তাই স্রষ্টার সান্যিধ্য পেতে হলে সৃষ্টির সেরা মানব সাধন প্রয়োজন। তিনি জানান, সাধুদের মনের দোলযাত্রা ও আত্মার শুদ্ধি নিজস্ব রীতিতেই হবে।
আত্মদর্শনের আলোকে ভক্ত-আশেকান ও শিষ্যদের নিয়ে সাধনায় নিমগ্ন লালন ফকিরকে স্মরণ করতে তার ভক্ত-শিষ্য ও অনুসারীরা প্রতি বছর দোল উৎসবের দিন এবং পহেলা কার্তিক সাঁইজির অন্তর্ধান দিবসে তার সাধনতীর্থ ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে একত্রিত হন। এসব সম্মিলনে লালনের মানব মুক্তির আধ্যাত্মিক বাণীসম্বলিত গান পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি আখড়াবাড়িসংলগ্ন কালীগঙ্গা মাঠে বসে গ্রামীণ মেলা।