সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৩ ২১:১৩ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩ ২১:৪২ পিএম
প্রবা ফটো
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) উন্নয়নের নামে পশ্চাৎপদতাকে লালনের অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে সিলেটের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো। তারা বলছে, সিসিক জনগণের সেবাদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান। তবে এখন পর্যন্ত নগরবাসী কাঙ্ক্ষিত সেবাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছে। অপরদিকে বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে ধারণ না করে উন্নয়নের নামে পশ্চাৎপদতাকে লালন করার অপচেষ্টা হচ্ছে। সিসিকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতারা বলেন, সম্প্রতি সর্বগ্রাসী বাণিজ্যিকীকরণ মানসিকতার বহি:প্রকাশ লক্ষণীয়। সিসিককে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সাত দাবিও উত্থাপন করেছেন তারা।
সোমবার (৬ মার্চ) বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ‘বাণিজ্যিক নয়, জনগণের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশনকে পরিচালনার সাত দফা দাবিতে প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশ’ করে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো। চলতি মার্চ থেকে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বরাদ্দের পরিকল্পনা ও সংলগ্ন শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের অভ্যন্তরে এটিএম বুথ স্থাপনের পাঁয়তারার অভিযোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করা হয়। সমাবেশে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বাস্তবায়ন পরিষদ যে সুনির্দিষ্ট শর্তাবলির মাধ্যমে সিসিককে শহীদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল, তা মেনেই পরিচালনা করাসহ সাত দাবি উত্থাপন করা হয়।
প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির মধ্যে আরও রয়েছে, শহীদ মিনার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মূল নকশাবহির্ভূত সকল স্থাপনা অবিলম্বে অপসারণ, সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স, পানির বিল ও ট্রেড লাইসেন্স ফি কমানো, নগরীর জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানকল্পে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ, সময়মতো মশক নিধন ও সিটি করপোরেশনের অন্তর্গত সকল ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সহজলভ্য ব্যবস্থা গ্রহণ, মানুষের সুস্থ বিকাশ, উন্নত দেশপ্রেমিক জাতি গঠন ও চিত্তবিনোদনের জন্য নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে পাঠাগার নির্মাণ, কালচারাল সেন্টার ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ, অবিলম্বে শারদা স্মৃতিভবন, পীর হাবিবুর রহমান স্মৃতি পাঠাগার ও লোকনাথ-পার্বতী টাউন হল খুলে দেওয়া এবং নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের ক্ষেত্রে আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি, মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ স্থাপনা নির্মাণ করা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে ও বাসদ সিলেট জেলার আহ্বায়ক আবু জাফরের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সভাপতি মো. আরিফ মিয়া, সিপিবির সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, জাসদ জেলা সাধারণ সম্পাদক কেএ কিবরিয়া চৌধুরী, জাসদের মহানগর সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আহমদ, সাম্যবাদী দলের অধ্যক্ষ ব্রজগোপাল চৌধুরী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক সিরাজ আহমদ, ওয়ার্কার্স পার্টির দীনবন্ধু পাল, বাসদের জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল, বাসদের (মার্কসবাদী) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রশীদ শোয়েব, সাম্যবাদী আন্দোলনের মহীতোষ দেব মলয়, উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি এনায়েত হাছান মানিকসহ অনেকে।
বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি জেলা সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, জাসদ জেলা সহসভাপতি সৈয়দ আনছার আলী, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক জুনেদুর রহমান চৌধুরী, সিপিবির জেলা সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান, জাসদ মহানগর যুগ্ম সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ইয়াহিয়া, জাসদ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাছিব চৌধুরী, যুক্তরাজ্য জাসদ নেতা মাহমুদুর রহমান শানুর, খেলাঘর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক তপন চৌধুরী টুটুল, চা-শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হৃদেশ মোদী, শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের প্রসেনজিৎ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জাহেদ আহমদ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমদ, ছাত্র মৈত্রী কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাসুদ রানা, ছাত্র ইউনিয়নের মনীষা ওয়াহিদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মনিষ কান্তি রায়সহ অনেকে।