কাজল বরণ দাস, পটুয়াখালী
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১৩:১৪ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১৩:১৫ পিএম
ফাইল ফটো
দরিদ্র নারীদের সহায়তার জন্য মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কর্মসূচিতেও সচ্ছল নেতাদের থাবা পড়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদের চাল বরাদ্দের নামের তালিকায় এমন অনিয়মের খোঁজ পাওয়া গেছে। তালিকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব মৃধার মা ও কৃষক লীগের আহ্বায়ক ফোরকান মৃধার স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
মূলত অসচ্ছল, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, উপার্জনে অক্ষম, নিয়মিত আয় নেই, ভূমিহীন নারীদের মধ্য থেকে ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের জন্য এই সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। কর্মসূচির আওতায় তারা দুই বছর মেয়াদে মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবেন।
এ ছাড়া যেসব পরিবার দৈনিক দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করে, অনুন্নত বসতবাড়িতে থাকে, প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে- তাদের এতে অগ্রাধিকার রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী আগের বছর সুবিধা না পাওয়া নারীদের চলতি বছর কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হবে। এজন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভিজিডি কার্যক্রমের নাম পরিবর্তন করে ‘ভালনারেবের উইমেন বেনিফিট (ভিউব্লিউবি)’ নাম করেছে।
অনলাইনে আবেদনের পর প্রথমে দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদের নামের তালিকা যাচাই-বাছাই করে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৩৩০ জনের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে ঘটেছে বিপরীত ঘটনা।
জানা গেছে, সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব মৃধা ও ড্রেজার ব্যবসায়ী রাজিব মৃধার মা মিনারা বেগম (৪৪) এবং উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক ও মুদি দোকানের মালিক মো. ফোরকান মৃধার স্ত্রী মনিরা নাসরিনের (৪৩) নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এতে চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন খানের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক হাওলাদার জানিয়েছেন, তালিকায় এদের নাম কে অন্তর্ভুক্ত করেছে তা তার জানা নেই।
ওই গ্রামের কয়েকজন বিধবা ও অসহায় হতদরিদ্র নারী জানান, আমাদের কিছুই নেই। গরিবের চেয়েও গরিব আমরা। তারপরও আমরা একটি কার্ড পাই না। শুনেছি যাদের আছে তারাই খালি পায়।
উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক ফোরকান মৃধা বলেন, আমাদের পরিবার অতটা সচ্ছল নয়। চাল দিলেও খেতে পারব, না দিলেও খেতে পারব। তবে চালটা পেলে একটু উপকার হয়।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব মৃধা বলেন, আমার পরিবারের কারো নাম যুক্ত হলে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে গিয়ে নাম কাটিয়ে আনব।
ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক হাওলাদার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ নামের তালিকা দিতে বলা হয়েছিল। আমি যাচাই-বাছাই করে যারা প্রাপ্য তাদের নাম দিয়েছি। এর মধ্যে কিছু নাম কিভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা আমার জানা নেই।
এ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইয়েমা হাসান বলেন, নিয়মের বাইরে যদি কারও নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটা কেটে দেওয়া হবে। কীভাবে নামগুলো যুক্ত হলো এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হবে।