বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৩ ২০:৫১ পিএম
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩ ২১:৫৯ পিএম
সাগরে ভাসমান ট্রলার। ফাইল ফটো
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ১৫ দিনের মাথায় আবারও ডাকাতের হামলা ও লুটের শিকার হয়েছেন জেলেরা। এবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বরগুনার পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীতে। এতে ডাকাত দলের হামলায় আহত হয়েছেন ১০ জেলে। তা ছাড়া ট্রলারে থাকা মাছ ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল।
শুক্রবার (৩ মার্চ) রাতে বলেশ্বর নদীর রুহিতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতির শিকার জেলেরা শনিবার (৪ মার্চ) বিকালে উপকূলে ফিরে এসেছেন।
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের পাথরঘাটা ষ্টেশন কমান্ডার লে. শাফায়েত আবরার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ওই ট্রলারের মালিকের নাম রবিউল ইসলাম। মালিক ট্রলারে থাকা জেলেদের বাড়ি খুলনায়।
ট্রলারের মাঝি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রলারে ১০ জন জেলে ছিলেন। সাগরে মাছ শিকার করে শুক্রবার রাতে আমরা উপকূলে ফিরছিলাম। রুহিতার কাছে বলেশ্বর নদীতে এলে আমাদের ট্রলারে একটা সার্চ লাইটের আলো পাই। মূহুর্তে ৩টি ট্রলার এসে আমাদের পাশে নোঙ্গর করে। সেখান থেকে ১২ জন লোক আমাদের ট্রলারে উঠে পড়েন। তারা আমাদেরকে রশি দিয়ে বেঁধে ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের দিকে চলে যান। আমাদের কাছে তারা ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।’
তিনি বলেন, আমরা মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১০ জেলেকে পিটিয়ে আহত করেন ডাকাত দলের সদস্যরা। তারা ট্রলারে থাকা ১২০ কেজি মাছ, ৫০ হাজার টাকা ও ৩টি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।’
এ বিষয় বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। জেলেরা এসেছিলেন। তাদের থানায় অভিযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছি।’
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের পাথরঘাটা ষ্টেশন কমান্ডার লে. শাফায়েত আবরার বলেন, ‘আহত জেলেদের মধ্যে দুজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য বন্দর থেকে ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে এফবি ভাই ভাই নামের মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাটির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৯ জেলেকে কুপিয়ে সাগরে ফেলে দিয়েছিল ডাকাত দল। তাদের মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন। ৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন। বাকি ৩ জন এখনও নিখোঁজ।