চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৩ ১৮:৫৫ পিএম
আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৩ ১৯:২৬ পিএম
বৃহস্পতিবার চসিক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরির সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) চসিক কার্যালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ সহযোগিতা চান।
মেয়র বলেন, ‘বর্তমানে পরিবর্তিত জলবায়ুর পরিপ্রেক্ষিতে জলাবদ্ধতা, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামো- এ চারটি খাতকে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। জাপান এই চার খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পারে। জাপানের অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ আজ যে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে, তা সম্ভব হয়েছে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য। বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নে জাপান বাংলাদেশের অকৃত্তিম বন্ধু হয়ে সহযোগিতা করে আসছে। কর্মগুণে বাংলাদেশের জনগণের মন জয় করেছে জাপান।’
মেয়রকে আশ্বস্ত করে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জাইকার (জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা) পাশাপাশি প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ মডেলে বিনিয়োগ করে জাপানি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাতে পারে। এজন্য জাপান সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতাপ্রাপ্তি নিশ্চিতে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’
বাংলাদেশে বাণিজ্য প্রসারে জাপান আগ্রহী জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ’চট্টগ্রাম ও মীরসরাই ইপিজেডে জাপানের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ রয়েছে। জাপানের সবচেয়ে বড় করপোরেশনগুলোর একটি নিপ্পন স্টিল বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে এবং আরও করতে আগ্রহী। বন্দর ও সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাস্টমসহ প্রশাসনিক জটিলতা কমানো গেলে জাপানের বিনিয়োগের স্বর্গভূমি হতে পারে চট্টগ্রাম। এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে। তাই ব্যবসাক্ষেত্রের বৈচিত্র্য আনতে জাপানি বিনিয়োগ বাংলাদেশে ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারে।’
উল্লেখ্য, জাইকার সহযোগিতায় সংক্রামক মেডিকেল বর্জ্য ধ্বংসে দেশের প্রথম ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট বসিয়ে চসিক যা চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই প্ল্যান্টে দৈনিক পাঁচ টন মেডিকেল বর্জ্য পোড়ানো হচ্ছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব খালেদ মাহমুদ, মেয়রের একান্ত সচিব ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম, জাপান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি আজুমায়া কেনজি, কাওয়াই হিরোশি, জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা জেট্রোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ইয়োজি আন্দো আনন্দ, জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ।