কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৩ ১০:২১ এএম
জলাবদ্ধতা কাটাতে মাটি ভরাট করে সংস্কার করা হচ্ছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজমাঠ। প্রবা ফটো
দ্রুত নগরায়নের ফলে কুমিল্লা শহরের পূর্বদিকে উঁচু উঁচু ভবন উঠতে শুরু করে। একটা সময় তা বিস্তৃত হয় শহরের পশ্চিমেও (শহরতলিতে)। এতে রাস্তাঘাটও উঁচু হতে শুরু করে। আর মাঝখানে পড়ে যায় দেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি শাখা। কলেজের মাঠসহ স্থাপনা নিচু হয়ে যায়।
ফলে বৃষ্টি হলেই কলেজ প্রাঙ্গণ ডুবে যেত। কর্তৃপক্ষ নানাভাবে চেষ্টা করে কলেজের স্থাপনাগুলোর জলাবদ্ধতার সংকট কাোয়। কিন্তু পাশের সাত একর আয়তনবিশিষ্ট মাঠটি ২০০১ সাল থেকেই পানির নিচে থেকে যায়। অনেকটা জলাশয় হয়ে যাওয়া এ মাঠ ছেয়ে যায় ঘাস, কচুসহ নানান জলজ উদ্ভিদে। বন্ধ হয়ে যায় খেলাধুলাসহ মাঠসংশ্লিষ্ট নানান কার্যক্রম। অবশেষে মাঠটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
গতকাল বুধবার কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, পাশের পুকুর থেকে মাটি নিয়ে মাঠটি ভরাট করা হচ্ছে। পুকুরের পাড়ে করা হচ্ছে ওয়াকওয়ে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কলেজটি এমনিতেই দৃষ্টিনন্দন। চলমান কাজ শেষ হলে এটি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে।
কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী পিঙ্কি রাণী সরকার বলেন, এতদিন মাঠটি দৃশ্যমান ছিল না। কলেজকে তাই অসম্পূর্ণ মনে হতো। এখন মাঠটিকে ভরাট করা হচ্ছে। কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য এটা বিরাট পাওয়া।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শাখওয়াত হোসেন বলেন, মাস্টার্সে পড়ছি। বেশিদিন থাকছি না। তবে মাঠটি দেখে ভালো লাগছে। তরুণরা অবসর সময়ে মাঠে খেলবে, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন হবে। মাঠের কারণে কলেজ অনেক জমজমাট হয়ে উঠবে।
কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর খান বলেন, বিশাল মাঠটি ভরাট করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। মাঠ ভরাটের জন্য ফান্ড ছিল না। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের সহায়তা এবং কলেজের শিক্ষকদের আন্তরিকতার কারণে মাঠটিকে দৃশ্যমান করে তুলতে পেরেছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
প্রায় ৩৩ একর আয়তনবিশিষ্ট কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের দুটি শাখা। মূল শাখা (উচ্চ মাধ্যমিক) নগরীর কান্দিরপাড়সংলগ্ন রানির দীঘির পাড়ে, যেটি ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখান থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে শহরতলির ধর্মপুরে কলেজের ডিগ্রি শাখাকে স্থানান্তর করা হয় ১৯৬০ সালে, যেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চালু আছে।
২০০১ সাল পর্যন্ত ডিগ্রি শাখার মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। এরপরই পানির নিচে চলে যাওয়ায় মাঠটি পরিত্যক্ত ডোবায় পরিণত হয়।