বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৩ ২২:২৬ পিএম
আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৩ ১৮:৫০ পিএম
বিয়ের পিঁড়িতে ইন্দোনেশিয়ার তরুণী নিকি উল ফিয়া ও পটুয়াখালীর বাউফলের যুবক ইমরান হোসেন। প্রবা ফটো
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়। একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক। তারপর দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষা। অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন ইন্দোনেশিয়ার তরুণী নিকি উল ফিয়া ও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার যুবক ইমরান হোসেন।
বুধবার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামে ইমরানের বাড়িতে ১০১ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাদের বিয়ে হয়। স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. শহিদুল্লাহ এ বিয়ে পড়ান। পরে রাত ৮টার দিকে তাদের গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়। এর আগে সকাল ১১টার দিকে পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আশিকুর রহমানের আদালতে বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আদালতের আইনজীবী শাহীন সেরনিয়াবাত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া প্রদেশের জেম্বার এলাকার বাসিন্দা ইউলিয়ানতোর মেয়ে নিকি উল ফিয়ার সঙ্গে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেনের বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আদালতে সম্পন্ন হয়েছে।’
ইমরানের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছোট পরিসরে পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি।’
এর আগে প্রেমের টানে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ইমরান হোসেনের কাছে এসেছিলেন ইন্দোনেশিয়ার তরুণী নিকি উল ফিয়া। তখন ইমরানের বিয়ের বয়স না হওয়ায় তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল। পাঁচ বছর পর বিয়ের জন্য গত সোমবার বাংলাদেশে আসেন নিকি। ইমরান হোসেন বলেন, ‘২০১৬ সালে ফেসবুকে নিকির সাথে পরিচয়। সেখান থেকে প্রেম সম্পর্ক। ২০১৭ সালে নিকি বাংলাদেশে আসে। কিন্তু বিয়ের উপযুক্ত বয়স না হওয়ায় আমাদের বিয়ে হয়নি। নিকি তার দেশে ফিরে যায়।’
দেশে ফিরে যাওয়ার সময় নিকি কথা দিয়েছিল আমার জন্য অপেক্ষা করবে জানিয়ে ইমরান আরও বলেন, সে তার কথা রেখেছে। পাঁচ বছর পর বাংলাদেশে এসেছে। আজ (বুধবার) আমরা বিয়ে করেছি। জানতে চাইলে উচ্ছ্বাস নিয়ে নিকি বলেন, ‘আজকের দিনের জন্য আমি খুব খুশি। এমন একটা দিনের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম।’
ইমরানের মা বিথী আকতার বলেন, ‘নিকি উল ফিয়াকে আমদের খুব ভালো লেগেছে। আমাদের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের ভিডিও কলে নিয়মিত কথা হয়। তাদের সঙ্গে কথা বলেই বিয়ের তারিখ ঠিক করা হয়েছে।’