বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৩ ২১:৫৬ পিএম
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩ ২২:০৬ পিএম
আহত সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
(ইউএনও) মো. মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানকে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মো. মিজানুর রহমান ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের দুই বারের ভাইস চেয়ারম্যান
ছিলেন। এছাড়া ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক
এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা।
বুধবার (১
মার্চ) বেলা ১১টার দিকে খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের কাঁঠালতলা এলাকায় এ
ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় মিজানুর রহমানকে ফকিরহাট উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয় । চোখ ও কানে গুরুত্বর
আঘাত থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কাঁঠালতলা এলাকায় থাকা একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে
দেখা যায়, খুলনা-মাওয়া মহাসড়ক দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িটি ফলতিতার দিকে যাচ্ছিল। মাত্র তিন
সেকেন্ডের ব্যবধানে গাড়িটি ব্যাকে আসে। তখন পার্শ্ব রাস্তা থেকে উঠে আসা মিজানুর
রহমানের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ইউএনওয়ের গাড়িটির
সামান্য ঘষা লাগে। প্রথমে গাড়ি চালক নিচে আসেন। পরে ইউএনও গাড়ি থেকে নামেন এবং মিজানুর
রহমানকে থাপ্পড় দেন। পরে গাড়ির পেছনে উঠিয়ে
নিয়ে চলে যান ইউএনও।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রথমে গাড়িচালক নেমে এসে মিজানুর
রহমানকে ধমকায়। পরে ইউএনও গাড়ি থেকে নেমে মিজানুর রহমানকে থাপ্পড় দেন।’
আহত মিজানুর রহমান বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে গরুর
ফার্মে যাচ্ছিলাম। কাঁঠালতলা মোড় এলাকায় পৌঁছলে
দ্রুতগতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িটি ব্যাকে (পিছনে) আসে। তখন ইউএনওয়ের গাড়ির সাথে আমার মোটরসাইকেলের সামান্য ধাক্কা লাগে। সাথে সাথে ইউএনওর গাড়িচালক এসে আমাকে গাড়িতে উঠতে বলে। গাড়িতে না উঠলে, ইউএনও গাড়ি
থেকে নেমে এসে আমাকে থাপ্পড় দেয়। ধাক্কা দিয়ে গাড়ির পেছনে
ওঠায় এবং গালিগালাজ করে। গাড়িতে করে কয়েক কিলোমিটার নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তিনি
আমাকে ছেড়ে দেন।’
তিনি বলেন, ‘পরে আমি ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
ভর্তি হই। চিকিৎসক আমাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাক, গান গলা বিশেষজ্ঞ দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘটনায় বিচার চাওয়ার মতো ভাষা নেই।’
এদিকে উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক
জনপ্রতিনিধিকে মারধরের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইউএনওর কঠোর শাস্তির
দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফকিরহাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খান মোহাম্মাদ আরিফুল হক
বলেন,
‘একজন সাবেক
জনপ্রতিনিধিকে মারধর করা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। একজন
ইউএনওর কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করা যায় না। ইউএনও মনোয়ার হোসেন শুধু মিজানুর রহমানকে
মারধর করেনি, এর আগেও একাধিক নাগরিক তার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে।
তিনি যা করেছেন তা চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের মতো অপরাধ।’
ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রত্যয় দাস বলেন, ‘মিজানুর রহমান বেশ অসুস্থ এবং
মুখ-কান ফোলা থাকায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তাকে কথা বলার জন্য গাড়িতে ওঠানো হয়েছে। পরিচয়
জানার পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ‘সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা কর্মকর্তার মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’