চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:১৯ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:২০ পিএম
সোমবার চট্টগ্রামে আয়োজিত বইমেলা মঞ্চে সংখ্যালঘু জাতিসত্তার উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন ড. অনুপম সেন। প্রবা ফটো
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংখ্যালঘু জাতিসত্তার বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি এ দেশের অমূল্য সম্পদ বলে মন্তব্য করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন।
তিনি বলেছেন, ‘সাংস্কৃতিক নানা উপাদান এসব জাতিগোষ্ঠীর সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। জাতীয়
উন্নয়নের জন্যই ক্সংখ্যালঘু জাতিসত্তার সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। দেশের
সংখ্যাগুরু মানুষের উচিত সংখ্যায় কম মানুষের সংস্কৃতির বিকাশে এগিয়ে আসা। ভাষা যদি
না থাকে, তবে সংস্কৃতি বিলুপ্ত হবে। তাই প্রয়োজন বাংলাদেশের অনেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর
ভাষা ও সংস্কৃতির সঠিক লালন।’
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি)
সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা মঞ্চে সংখ্যালঘু জাতিসত্তার উৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান
অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. অনুপম সেন বলেন,
‘ক্ষুদ্র সংস্কৃতির বিকাশে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতা
বড় অন্তরায়। সংখ্যালঘু জাতিসত্তার অধিবাসীদের মধ্যে চাকমা, মারমা,
ত্রিপুরা, তঞ্চংগ্যা, ম্রো, লুসাই, বোম, পাংখোয়া, খুমি, চাক, খেয়াং প্রভৃতি উপজাতি
রয়েছে। অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির উপাদান মানুষে মানুষে বিভাজন রুখতে পারে। ১৯৭২ থেকে
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ইত্যাদি বিভিন্ন
ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংখ্যালঘু জাতিসত্তার প্রতি বঙ্গবন্ধুর আন্তরিকতা ও
উদারতার ধারা অব্যাহত ছিল। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেই পার্বত্য চট্টগ্রামের সংখ্যালঘু জাতিসত্তার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বৈদেশিক বৃত্তি মঞ্জুর করা হয়।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা
অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আজাদ বুলবুলের সভাপতিত্বে সভায় আলোচক ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা
পরিষদের চেয়ারম্যান কংজুরী চৌধুরী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পুরস্কার প্রাপ্ত গুণীজন মথুরা
বিকাশ ত্রিপুরা, নাবিক ও প্রবাসী কল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক সুমন বড়ুয়া, বিশিষ্ট কলামিস্ট
ড মাসুম চৌধুরী, কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন
বই মেলা কমিটির আহ্বায়ক কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু। এসময় উপস্থিত
ছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা উজালা রাণী চাকমা। অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও
বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচ পরিবেশিত হয়।