রিজেন্ট টেক্সটাইল
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৪৫ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪২ পিএম
বকেয়া বেতনের দাবিতে রবিবার অনশন শুরু করেছিলেন রিজেন্ট টেক্সটাইলের শ্রমিক-কর্মকর্তারা। প্রবা ফটো
বকেয়া বেতনের দাবিতে ডাকা অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন চট্টগ্রামের রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শ্রমিকরা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) মধ্যস্থতায় কারখানা মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে উপস্থিত থাকা চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের কোতোয়ালি জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোরশেদ পারভেজ।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে
তিনি বলেন, ‘গতকালের (রবিবার) মতো আজও সকাল থেকে শ্রমিকরা
হাবিব গ্রুপের অফিসের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। বিজিএমইএয়ের মধ্যস্থতায়
একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মালিকপক্ষ। বৈঠকে
মালিকপক্ষ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া আগামী ১৩ মার্চ এবং একই বছরের অক্টোবর
মাসের বকেয়া বেতন ১০ এপ্রিল পরিশোধ করার পাশাপাশি এভাবে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে
ক্রমান্বয়ে সকল মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। মালিকদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি
পেয়ে শ্রমিকরা বেলা আড়াইটার দিকে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন।’
এর আগে বকেয়া বেতনের
দাবিতে রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নগরীর লাভলেইন মোড় এলাকায় হাবিব গ্রুপের প্রধান
কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু করেন শ্রমিকরা। শতভাগ রপ্তানিপণ্য উৎপাদনকারী রিজেন্ট
টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড হাবিব গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ
করতেই শ্রমিকরা সেখানে কর্মসূচি শুরু করেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, কাঁচামাল সংকটের অজুহাতে মালিকপক্ষ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কারখানা লে-অফ ঘোষণা করে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ১৩০ জন শ্রমিক-কর্মকর্তার ছয় মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, কারখানা লে-অফ ঘোষণা করলে শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন দিতে হয়। সেই হিসাবে শ্রমিকরা প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের কাছে ৯ মাসের বেতন-ভাতা পাবেন। ওই বকেয়া বেতনের দাবিতে দুই বছর ধরে দফায় দফায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন শ্রমিকরা। প্রত্যেকবারই বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ করেনি। তাই বাধ্য হয়ে অনশন শুরু করেন তারা।