সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:০০ পিএম
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:৩২ পিএম
সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়ক ঘন্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখলে সেখানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রবা ফটো
চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় দুজনকে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়ক ঘন্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখলে সেখানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টা থেকে অবরোধ করার পর পুলিশ ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শেখ ফাহিম ফয়সালকে চার দিন আগে তুলে নিয়ে যান একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আবিদ হাসান ও তার সহযোগীরা। তারা তাকে মারধর করে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেন তারা। এর প্রতিবাদ করেন স্থানীয় মুদি দোকানি শাফায়াত আলী মুক্ত ও সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনিরুল ইসলাম। তাদেরও লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ২০ থেকে ২৫ জন। তা ছাড়া তারা বাবু নামে স্থানীয় এক মুদি দোকানিকে তুলে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
শাফায়াত আলী মুক্ত ও ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শুধু ফাহিম নয়, অন্য ছাত্রদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন ছাত্রলীগ সভাপতি। প্রতিবাদ করলে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয় তাদের। তারা বলছেন, ছাত্রলীগ সভাপতি ও তার সহযোগীরা স্থানীয় বিভিন্ন দোকান থেকে চা-সিগারেট নিয়ে বিল পরিশোধ করেন না। এ ছাড়া দোকান থেকে জোর করে মালামাল নিয়ে চলে যান তারা। প্রতিবাদ করলে পকেটে গাঁজা ঢুকিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকেন ছাত্রলীগ সভাপতি। তারা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি আবিদ হাসান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ওপর কয়েকজন লোক হামলা করেছিল। তারা আমাকে মারধর করেছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। তবে আমি কাউকে আঘাত করিনি।’ সড়ক অবরোধের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ এ রকম অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পুলিশ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ মো. ফখরুল আলম খান। তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা ইতোমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।’