মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:১৭ পিএম
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫৮ পিএম
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল হামিদ সেনানিবাসের উদ্বোধন করতে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের মিঠামইন সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এদিন দুপুরে রাষ্ট্রপ্রধানের নিমন্ত্রণে তার বাড়িতে অতিথি হবেন প্রধানমন্ত্রী। এখানে হাওরের মাছ দিয়ে সরকারপ্রধানসহ অতিথিদের আপ্যায়ন করানো হবে।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এদিন বিকালে মিঠামইন হেলিপ্যাড মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীন বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো উপজেলায় রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান একত্রিত হচ্ছেন। এসব কর্মসূচি ঘিরে হাওরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী মিঠামইনে আসবেন। এর এক দিন আগে সোমবার মিঠামইনে চলে আসবেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে সকালে মিঠামইন সদরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল হামিদ সেনানিবাস উদ্বোধন করবেন। পরে রাষ্ট্রপতির নিমন্ত্রণে তার পৈত্রিক বাড়ি মিঠামইন সদরের কামালপুর গ্রামে অতিথি হবেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে আপ্যায়ন করা হবে হাওরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দিয়ে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের মধ্যে রয়েছে অষ্টগ্রামের পনির। তাই অষ্টগ্রামের পনির মাঝেমধ্যেই গণভবনে পাঠানো হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বিখ্যাত এ পনির দিয়ে দেওয়া হবে।’
রাষ্ট্রপতির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির বাসভবনে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম শেষে বিকালে মিঠামইন হেলিপ্যাড মাঠে আওয়ামী লীগের সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদ সদস্য তৌফিক জানান, মিঠামইনে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। সোমবার সকালে প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই হাওরবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আমার বিশ্বাস ব্যাপক জনসমাগম ঘটবে এই সমাবেশে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো দাবি উত্থাপন করা হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশের জবাবে তিনি বলেন, ’প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাওরবাসীর আর কোনো চাওয়া নেই। হাওরের উন্নয়নে তিনি সবকিছু করে দিয়েছেন। আজীবন কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে হাওরবাসী।’
তিনি বলেন, ’প্রধানমন্ত্রী হাওরে আসছেন এটাই হাওরবাসীর বড় চাওয়া-পাওয়া।’
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর মিঠামইন সফরকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগ ও ১৩ উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে তারা। তবে সবচেয়ে বেশি উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে হাওরে। প্রতিদিন পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশসহ উঠান বৈঠক ও আনন্দ মিছিল করছে তারা।
এর আগে ১৯৯৮ সালের ৩ অক্টোবর মিঠামইনে প্রথমবার এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও মিঠামইন সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
৫ দিনের সফরে কিশোরগঞ্জ আসছেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি আগামীকাল (সোমবার) সরকারি সফরে কিশোরগঞ্জ আসছেন। রবিবার (২৬ ফ্রেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার মো. নবীরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এবারের কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতি পাঁচ দিন জেলার বিভিন্ন এলাকা সফর করবেন।
২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের মিঠামইন, করিমগঞ্জ ও সদর উপজেলা সফর করবেন তিনি। সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় বঙ্গভবন থেকে তেজগাঁও হেলিপ্যাডের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। সেখান থেকে আড়াইটার দিকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে মিঠামইনের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সোয়া ৩টায় মিঠামইনে তাকে গার্ড অব অনার শেষে কামালপুরে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
১ মার্চ করিমগঞ্জে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। ২ মার্চ কিশোরগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট পরিদর্শন করবেন। ৩ মার্চ কিশোরগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এদিন বিকালে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা ফিরবেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।