খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪৫ পিএম
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:২৪ পিএম
২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করছে। প্রবা ফটো
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের তেলিগাতি নদীর বাঁধ মেরামতের কাজ চলা অবস্থায় বাঁধ ভেঙে নোনাপানিতে ভেসে গেছে গ্রাম। বাগআচড়া ওবাদুরগাছা নামের গ্রামটি হরি নদী, ভদ্রা নদী ও তেলিগাতি নদীর ত্রিমোহনায় অবস্থিত।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাঁধ ভেঙে রাত দেড়টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জোয়ারের পানি ঢুকেছে ওই গ্রামে। এতে তলিয়ে গেছে বোরো ধান, মাছের ঘেরসহ ফসলি জমি। পরে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধের পানি আটকানোর চেষ্টা করেছে এলাকাবাসী। এ নিয়ে এখনও আতঙ্কে রয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, শোভনা ইউনিয়নের তেলিগাতি নদীর পাশের বাঁধটি প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ইতঃপূর্বে প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি দিয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ করলেও বাঁধটি দুর্বল রয়ে যায়। গতকাল মধ্যরাতে বাদুরগাছা গ্রামের উত্তরপাড়ায় বাঁধের দুর্বল জায়গাতে জোয়ারের চাপে ৩০ ফুটের বেশি ভেঙে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সুকান্ত সরকার জানান, রাত দেড়টার দিকে সংবাদ পাই বাদুরগাছা উত্তরপাড়ায় বাঁধ ভেঙে গেছে। আমাদের গ্রামের ভেতর জল ঢুকছে। দ্রুত একে অপরের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাদুরগাছা-বাগআচড়াসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের প্রায় ৩০০ মানুষ স্বেচ্ছায় বাঁধ মেরামত কাজে অংশ নেয়। একটানা দিন-রাত কাজ শেষে দুপুরের দিকে জোয়ারের আগে বাঁধ কিছুটা রক্ষা করা যায়। মাটির সংকট থাকায় জিয়েলতলা থেকে ৩টি ট্রলারে করে মাটি এনে মেরামতের কাজ করতে হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য বলেন, ’জোয়ারের পানিতে বোরো ধান, মাছের ঘেরসহ দুই শতাধিক বিঘা ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে কোটি টাকার বেশি। সারা রাত এলাকার লোকজন নিয়ে বাঁধের ওপর অবস্থান করেছি। ভোরে জোয়ারের চাপ কিছুটা কমলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। বালি ভরা জিও ব্যাগ থাকায় জোয়ারের পানি আটকানো সম্ভব হয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান জানান, ওই এলাকা এলজিইডি দেখাশোনা করে। তারাই মেরামত ও সংরক্ষণের দায়িত্বে আছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ’প্রতিবছর একই জায়গায় ভাঙনের কবলে পড়ে। বাগআচড়া বাদুরগাছা পানি সমবায় সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডি থেকে ভাঙন প্রতিরোধে ১ হাজার ১০০ মিটার পর্যন্ত বাঁধ মেরামতে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজ পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চলমান রয়েছে।’