নির্মমতা
ময়মনসিংহ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২২ ২০:৩৪ পিএম
প্রতিবেশীদের হামলায় আহত আরশাদুল
পুরো মাথায় ব্যান্ডেজ। প্রতিবেশীদের আঘাতে মো. আরশাদুলের মাথায় সেলাই লেগেছে ৪৪টা। তার চিকিৎসা চলছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। নিরাপত্তার কারণে ব্যান্ডেজের ওপর লেখা হয়েছে ‘মাথায় হাড় নাই, চাপ দিবেন না’। তবে তার মাথার মগজ রাখা হয়েছে সাভারের আশুলিয়ার ইনস্টিটিউট অব টিস্যু ব্যাংকিং অ্যান্ড বায়োম্যাটেরিয়াল রিসার্চ সেন্টারে। রোগী একটু সুস্থ হলে তার মগজ প্রতিস্থাপন করা হবে বলে পরিবারকে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
জীবন সংকটে থাকা আরশাদুল ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার অরণ্যপডাশা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তুচ্ছ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে আরশাদুলের ওপর হামলা চালায় প্রতিবেশীরা। শনিবার (১৮ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলায় আরো ১০ জন আহত হন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত পাঁচ দিন ধরে ঢামেকে আরশাদুলের চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির সামনে একটি জলাশয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আরশাদুলের ছোট ভাই আহাদের সঙ্গে প্রতিবেশী নবী হোসেনের ছেলে জুনায়েদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়। তবে ক্ষোভ যায়নি জুনায়েদের। শনিবার আরশাদুলকে একা পেয়ে বড় ভাই সুজনকে সঙ্গে নিয়ে হামলা চালায় জুনায়েদ। এ সময় আরশাদুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে তারা।
গুরুতর অবস্থায় আরশাদুলকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে পাঠানো হয়। দায়ের কোপ ও শাবলের আঘাতে আরশাদুলের মাথার খুলি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরশাদুলের বাবা মঞ্জিল মিয়া জানান, তারা (প্রতিবেশীরা) আমার ছেলেকে নিমর্মভাবে কুপিয়েছে। এতে ছেলের মাথার খুলি উপড়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখানে আরশাদুলের চিকিৎসা চলবে। তবে তার মগজের কিছু অংশ ইনস্টিটিউট অব টিস্যু ব্যাংকিং অ্যান্ড বায়োম্যাটেরিয়াল রিসার্চ সেন্টারে জমা রাখা হয়েছে। সে সুস্থ হলে অপারেশনের মাধ্যমে মগজ ভেতরে প্রবেশ করে খুলি প্রতিস্থাপন করা হবে। এতে তিন মাস সময় লাগতে পারে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এ কারণে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুনায়েদের এক আত্মীয় জানান, এটা খুবই ন্যাক্কারজনক কাজ হয়েছে। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। তবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।