এআরএসপিএইচের বিবৃতি
কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:১২ পিএম
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪২ পিএম
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ফাইল ছবি
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কমানোর ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) নামের সংগঠন।
সংগঠনের ভাইস-চেয়ারম্যান দাবি করে আবদুর রহিম নামের একজনের স্বাক্ষরে এক বিবৃতিতে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) নামের সংগঠনটির চেয়ারম্যান ছিলেন নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ। ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মুহিবুল্লাহ নিহত হওয়ার পর সংগঠনটির কোনো তৎপরতা ও কর্মসূচি দেখা যায়নি। সংগঠনটিতে আবদুর রহিম নামের কোনো ভাইস-চেয়ারম্যান আছেন কি না, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
তবে ২১ ফেব্রুয়ারি এআরএসপিএইচ নামের একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে ১ মার্চ থেকে অনুদানের পরিমাণে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কম থাকার কারণে প্রত্যেক রোহিঙ্গার জন্য দেওয়া খাদ্য সহায়তা ভাউচারের পরিমাণ ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ১০ ডলারে নিয়ে আসতে হবে।
সিদ্ধান্তটিকে উদ্বেগজনক মন্তব্য করে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী শরণার্থী হিসেবে প্রতি মাসে ১২ ডলার নিয়ে বেঁচে থাকা কতটা কঠিন! এরমধ্যে আরও কমানোর কারণে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।’
খাদ্য সহায়তা কমানোর ফলে চাঁদাবাজি, পতিতাবৃত্তি, মানব পাচার, মাদক পাচার এবং মৌলবাদীকরণসহ অনেকগুলো নতুন চ্যালেঞ্জ হতে পারে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের জনগণের হতাশা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে এই কার্যকলাপগুলো আমাদের সম্প্রদায়ের সবচেয়ে দুর্বল সদস্যদের বড় ঝুঁকির মধ্যে নিয়ে যাবে।’
বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পক্ষে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং অন্যান্য মানবিক সংস্থার কাছে ঘাটতি পূরণের জন্য তহবিলের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে দাতা দেশগুলোকে রোহিঙ্গা সংকটে তাদের অবদান বাড়াতে অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) -এর একটি বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের গোপনে ও প্রকাশ্যে অনেক সংগঠন রয়েছে। তারা কয়েকজন মিলেও একেকটি সংগঠন গড়ে তোলে। এগুলোর মধ্যে কোনটি রোহিঙ্গাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করে, তা বলা মুশকিল। তবে ডব্লিউএফপিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্যের পরিমাণ দিন দিন কমিয়ে আনছে এবং এতে সংকট আরও ঘনিভূত হবে।’
ডব্লিউএফপিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্যের পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য কিছু কারণের কথা উল্লেখ করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্ভুদ জরুরি পরিস্থিতির ওপর বেশি জোর দিয়ে থাকে। গত বছর থেকে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধপরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়া-তুরস্কে ভূমিকম্পসহ বিশ্বের নানা দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি বেড়েছে। এতে বেশিরভাগ সংস্থা নাজুক পরিস্থিতি বিরাজমান অঞ্চলে কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্যের পরিমাণ কমিয়ে এনেছে।’
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্যের পরিমাণ কমিয়ে আনার ঘোষণায় কিছুটা সংকটের সৃষ্টি হলেও বড় সমস্যায় পড়তে হবে না। এ ব্যাপারে বিশ্বের অর্থশালী দেশগুলোর সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা চলছে। অনেক দেশের কাছে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’