ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:১৭ পিএম
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩০ পিএম
ভৈরব থানা। ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে সেটি জানাতে না পারলেও পুলিশ বলছে, তার মাথার পেছনের দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যে বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সে বাড়ির বাসিন্দা দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
মৃত ব্যক্তির নাম সোনা মিয়া। তিনি আমলাপাড়া নিউ টাউন এলাকার বাসিন্দা। আটক দুই নারী হলেন- মোসা. স্বর্ণা ও সাদিয়া আক্তার।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টায় ভৈরবের আমলাপাড়া থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে সোনা মিয়া নেশায় আসক্ত ছিলেন। তার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শামীম নামে এক ব্যক্তির বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই শামীম পালিয়ে গেলেও ওই বাসা থেকে স্বর্ণা ও সাদিয়া নামে দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে কথায় অমিল পাওয়া যায়। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিহতের বড় ভাই হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাদক মামলায় চার মাস জেল খেটে ছাড়া পেয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি বাড়িতে আসে সোনা মিয়া। খাওয়া-দাওয়া করে স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হয়। ভোরে জানতে পারি ভাই মারা গেছে। ভাইয়ের মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় আমরা পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’
নিহতের ছেলে রুহানুর রহমান আলভী বলেন, ‘আমার বাবার দুটি সংসার রয়েছে। একটি সংসার নরসিংদী বেলাবতে থাকে। আর আমরা থাকি আমলাপাড়ায়। তিনি রাত ১১টায় আমাদের দেখতে আসেন। ভোর ৪টায় প্রতিবেশী আশরাফ মিয়ার বাসার ভাড়াটিয়া শামীমের মাধ্যমে খবর পাই বাবার শরীর খারাপ। পরে বাবাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আমার বাবার মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শামীম আমাদের খবর দিয়ে পালিয়ে যায়। তার মোবাইল বন্ধ রয়েছে। আমাদের ধারণা বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’