রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:২৩ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:১১ পিএম
হামলায় আহত শিক্ষক চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালে। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ওই শিক্ষককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত নেতার ভাষ্য, তার অনুসারীরা ওই শিক্ষককে সামান্য চড়-থাপ্পড় দিয়েছে। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কাঞ্চন মধ্য বাজার এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলের দাওয়াত দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। তিনি হাঁটাবোর সাত্তার জুট মিল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সেখানে তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। কী কারণে এই হামলা এই প্রশ্নের জবাবে আজাদ জানান, হাঁটাবো টেকপাড়া এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিল হতে যাচ্ছে। এই অনুষ্ঠানের জন্য একটি দাওয়াত কার্ড তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিসহ অনেকেরই নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলিও রয়েছেন।
এদিন দাওয়াত কার্ড হাতে পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রেগে যান। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাওয়াত কার্ডে তার নাম অতিথি তালিকার সবার নিচে কেন? এ সময় গোলাম রসুল কলিসহ তার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতার সামনেই তার অনুসারী বাছির, লোহা শাহীন, মতিউর, মতিনসহ ১০ থেকে ১২ জন তার ওপর হামলা করে। পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সটকে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, ‘এটি ঘৃণ্য হামলা। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সড়ক অবরোধের পাশাপাশি বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দাওয়াত কার্ডে অতিথির নাম কোনো বিষয় নয়। শিক্ষক নিজের দাপট দেখিয়ে আমার ছেলেদের উদ্দেশ করে উল্টাপাল্টা কথা বলেছেন। তাই তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে আমি তাকে ছাড়িয়ে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েব বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’