চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:২২ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:১২ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে হুড়োহুড়িতে আহত পাঁচ পুণ্যার্থী।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শিবচতুর্দশী মেলায় পুণ্যার্থীদের অত্যাধিক চাপে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অন্তত দুই হাজার মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে আহত হওয়ার এ ঘটনা ঘটেছে। চাপে পড়ে আহত হওয়ার পর উঁচু পাহাড়ে ওঠার একমাত্র পথটি বন্ধ করে আগে চূড়া থেকে পূণ্যার্থীদের নামিয়ে আনার কাজ করে পুলিশ। তবে দুপুরের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ২০০ ফুট ওপরে পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধামে প্রতিবছর তিন দিনের ধর্মীয় তীর্থ শুরু হয়। এবার চার দিন চলবে তীর্থকর্ম। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবার অন্তত ১০ লাখ পুণ্যার্থী সমবেত হয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশ থেকে এবার বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী এসেছেন। অতিরিক্ত পুণ্যার্থীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ।
আহতরা হলেন বীণা দাস, চম্পা হাওলাদার, কমলা কর্মকার, লিপি কর্মকার ও সুষেন দাস।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুর উদ্দিন রাশেদ জানান, আহত পাঁচজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিবচতুদর্শী মেলা প্রাঙ্গণে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে অন্তত ২ হাজার পুণ্যার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
মেলা কমিটির সভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ ধামে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। নিরাপত্তায় ৫০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ছয়টি পয়েন্টে রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।’
পাহাড় থেকে নামার সিঁড়ি ভেঙে দুজন মারা গেছেন, গতকাল শনিবার মধ্যরাতে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে পুণ্যার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পাহাড়ে ওঠানামার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভোরের আলো ফোটার পর বিকল্প পথে নামতে অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় হুড়োহুড়ি আর ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গিয়ে আহত হন পাঁচজন।
মৃত্যুর বিষয়টি গুজব বলে নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে। কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে রাতে অতিরিক্ত পূণ্যার্থী পাহাড় চূড়ায় যান। নিচ থেকে আরও পুণ্যার্থী চূড়ায় যাওয়া অব্যাহত থাকলে ভিড় বাড়ে। একপর্যায়ে ওপরে ওঠা পুণ্যার্থীদের নামিয়ে আনার লক্ষ্যে ওঠার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাতে ওপরের দিকে থাকা পুণ্যার্থীরা নেমে আসতে পারেন। এ ব্যবস্থা নেওয়ার পর ভোরে ভিন্ন পথে পুণ্যার্থীদের নামিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। এতে করে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।’
তিনি বলেন, ‘অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী এবার অংশগ্রহণ করেছেন। সে কারণে ভিড় আছে। সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।’
মৃত্যুর গুজব বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মন্দিরের দুটি কমিটি আছে। সেখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ।’