রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:০৪ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:৪৭ পিএম
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ইউএনও জানে আলমকে অপসারণের দাবিতে রবিবার মানববন্ধন করেছেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতারা। প্রবা ফটো
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানে আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা। রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজশাহী নগরীর জিরো পয়েন্টে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখা এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে ইউএনও জানে আলমকে ‘আদিবাসী বিদ্বেষী’ উল্লেখ করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতারা বলেন, ‘বর্তমান সরকার আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ঘর নির্মাণ, ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, ছাত্রছাত্রীদের বাইসাইকেল বিতরণ, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আয়বৃদ্ধি কর্মসূচি, একটি বাড়ি একটি খামার, পরিবারভিত্তিক গবাদি পশু প্রদান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এককালীন অর্থ প্রদান ইত্যাদি। তবে বর্তমান ইউএনওসহ সরকারের কিছু দুর্নীতিবাজ অফিসারদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকারের মহৎ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এ সকল প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতাদের অভিযোগ, গোদাগাড়ী উপজেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের দখলীয় খাসজমিতে ইউএনও জোর করে ঘর নির্মাণ করে অ-আদিবাসীদের দিচ্ছেন। এসব ঘর থেকে আদিবাসীরা বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলার কাঁকনহাটের আদিবাসী গ্রামের লালদিঘি পাড়ার কবরস্থানসহ অন্যান্য কবরস্থান ভূমিদস্যুরা জবরদস্তি করে দখল করে নিয়েছে। এসব বিষয়ে গোদাগাড়ী ইউএনও অফিসে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে শিক্ষাবৃত্তি আসলে তারা ঠিকমতো দেয় না। টাকা পড়ে থাকলেও দিতে চায় না। অথচ অনেক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ছাত্রছাত্রীরা টাকার অভাবে পরীক্ষার সময় ফরম ফিলাপ করতে পারে না।
ইউএনও জানে আলম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন- এমন অভিযোগও তুলেছেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতারা। তাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসসমূহের কর্মসূচিতেও আদিবাসীদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না।
মানববন্ধনে জানানো হয়, গোদাগাড়ী উপজেলায় সাঁওতাল, উরাও, মুণ্ডা, মাহালী, রাজোয়াড়, তেলী, বর্মন, গড়াৎ, লোহার, বাগদী, ভূমিজ, পাহাড়িয়া, মাহাতো ও কোল সম্প্রদায়ের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। মানববন্ধনে নেতারা ইউএনও জানে আলমের অপসারণসহ তাদের জীবনমান উন্নয়নে ১০ দাবি জানান।
এগুলো হলো, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের সরকারি বরাদ্দ বাস্তবায়নে যারা অনিয়ম করছে তাদের শাস্তি প্রদান, গোদাগাড়ী উপজেলার কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দ্রুত আদিবাসী প্রশিক্ষক নিয়োগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা অন্যান্য দপ্তর থেকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি-উপবৃত্তি সময়মতো প্রদান করতে হবে, উপজেলা কমিটিতে আদিবাসী প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্পৃক্ত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে ও ২০২১-২২ অর্থবছরে আদিবাসীদের ঘর নির্মাণের সময় মিস্ত্রিদের খাওয়ানো বাবদ খরচ আদিবাসীদের ফেরত দিতে হবে, আদিবাসীদের জায়গায় ঘর নির্মাণ করেছে অথচ বসবাস করছে আরেকজন- সেসব জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, আদিবাসী পরিবারদের অসুস্থ ভেড়ার বাচ্চা প্রদান করা হয়েছিল- যেসব পরিবারের ভেড়া মারা গেছে, তাদের পুনরায় ভেড়া প্রদান করতে হবে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর দখলীয় খাসজমির ওপর যেসব জায়গায় ঘর নির্মাণ করে অন্য সম্প্রদায়কে দেওয়া হয়েছে- সেসব ঘর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবারকেই দিতে হবে, লালদিঘি পাড়াসহ অন্যান্য সকল আদিবাসী কবরস্থানসমূহ সংরক্ষণ ও আদিবাসী কবরস্থান নামে বন্দোবস্ত দিতে হবে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ইউএনও জানে আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গণেশ মার্ডি, রাজশাহী জেলার জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, সাধারণ সম্পাদক সুরেশ কুমার শ্যাম দুয়ার, জাতীয় আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি তরুণ মুণ্ডা, সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, গোদাগাড়ী উপজেলার জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ হেমব্রমসহ গোদাগাড়ী উপজেলার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অর্ধশত পরিবারের সদস্যরা।