মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:৩৮ পিএম
পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙনে তীরবর্তী শত শত পরিবার প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকায় প্রতিদিন দেখা দিচ্ছে ভাঙন।
বিলীন হচ্ছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি। তবুও জীবনযুদ্ধের সংগ্রামে থেমে নেই উপকূলীয় মানুষ। এখনও আশায় বুক বেঁধে আছেন নদীর বাঁকে কবে জাগবে তাদের হারিয়ে যাওয়া জমি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পানগুছি নদীর তীরবর্তী গাবতলা গ্রাম। অপরপ্রান্তে হোগলাবুনিয়ার বদনীভাঙ্গা, পাঠামারা গ্রামগুলোতে এক সময় ২ হাজার পরিবারের বসবাস ছিল। এখন আছে মাত্র ৫ শতাধিক পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ২০০ একর ফসলি জমি। শত শত পরিবারের বসতবাড়ি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ একাধিক স্থাপনা কালের বিবর্তনে নদীগর্ভে প্রতি বছর হারিয়েছে যাচ্ছে। অব্যাহত এ ভাঙন থেমে নেই। অনেকেই কর্মের তাগিদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলে গেছেন বিভিন্ন শহরে। আবার কেউ কেউ বসবাস করছেন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে। প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্ষত-বিক্ষত করে দেয় নদীর তীরবর্তী মানুষগুলোকে।

বয়োজ্যেষ্ঠ শাহিদ শেখ বলেন, ‘প্রতিবছরই এলাকার বিঘার পর বিঘা জমি গ্রাস করে নিচ্ছে সর্বনাশা পানগুছি নদী। বন্যার কথা শুনলেই পরিবার নিয়ে আতঙ্কে থাকি। কি হবে কোথায় থাকবো। জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় সর্বত্রই।’
তবে বুকে আশা বেঁধে আছেন তিনি। বলেন, ‘শুনছি নদীর এক পার ভাঙে অপর পার গড়ে। আবারও কি ফিরে পাবো আমাদের হারানো জমি।’
এদিকে উপজেলার বারইখালী, বহরবুনিয়া, শ্রেণীখালী, হোগলাবুনিয়ার পাঠামারা, বদনীভাঙ্গা, পঞ্চকরনের দেবরাজ, সোনাখালী, তেলিগাতির হেড়মা, খাউলিয়াসহ নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো দিন দিন নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে। উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর, আইলা আম্পান, বুলবুল, ফণী’র সম্মুখীন হতে হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম তারেক সুলতান বলেন, ইতোপূর্বে নদী গর্ভে নতুন নতুন ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে স্থায়ী বেড়িবাঁধের জন্য অর্থ বরাদ্দ। স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে কাজটি দ্রুত শুরু করার জন্য তদারকিও করছেন।