মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:১৪ পিএম
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সিংজুরি ইউনিয়নের পাশে সকাল হলেই গাভিরদুধ নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেন খামারিরা। প্রবা ফটো
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরি ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। এর পাশাপাশি গত তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে কামারজাগি, কাশিমপুর, কুসুন্ডা, গণসিংজুরি গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এসেছে গাভি পালন করে। এসব গ্রামের ৮০ ভাগ পরিবারই গাভি লালন-পালনে জড়িত। তাদের আয়ের বড় একটা অংশ আসে দুধ বিক্রি করে।
পুরোনো সিংজুরি ইউনিয়ন পরিষদের পাশের ছোট্ট একটা গলিতে বড় কলস মাথায় করে দুধ নিয়ে হাজির হন স্থানীয় খামারিরা। কাঁটায় কাঁটায় সকাল ৮টায় শুরু হয় বাজার। আর দশটা রকমারি পণ্যের জন্য নয়, গাভির দুধের কারণে বিখ্যাত এ বাজার। মাত্র আধা ঘণ্টার এই সরগরম বাজারে জেলার নানা প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতারা অপেক্ষা করেন আগে থেকেই। ৪৫ বছর ধরে এভাবেই স্বল্প সময়ে দুধ বেচাকেনা চলে এ বাজারে। ভেজালমুক্ত ও যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকায় প্রতিদিন বেচাকেনা হয় ১০০ থেকে ১২০ মণ দুধ। কয়েকদিন ধরে মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকায়। প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ টাকার এবং মাসে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকার দুধ বিক্রি হয়। ঘিওর উপজেলার এ বাজারটি অনেকের ভাগ্য বদলালেও রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা।
তিন যুগ আগে থেকেই খোলা জায়গায় দুধ বেচাকেনা করায় আশপাশের পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বর্ষাকালে সমস্যা হয় আরও বেশি। কয়েক বছর ধরে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি হলেও দুধের সেই একই দাম রয়েছে। তা ছাড়া খামারিদের কোনো সমিতি না থাকায় তারা এক প্রকার বাধ্য হয়েই স্থানীয় ঘোষেদের কাছে কম দামে দুধ বিক্রি করেন। সেই সুযোগে ঘোষেরা লিটার মাপে দুধ না কিনে কেজি দরে কিনছেন। ১ লিটারে হয় ৯৫০ গ্রাম। আর কেজি মাপে কেনায় ৫০ গ্রাম করে বেশি নিচ্ছেন ক্রেতারা। এভাবে প্রতিদিন ১০০ মণ দুধ বিক্রি হলে ৫ মণই বিনামূল্যে নিয়ে যাচ্ছেন তারা।
সিংজুরি ইউনিয়নের কামারজাগি গ্রামের রিপন মিয়া পড়াশোনার পাট চুকিয়ে পুরোদস্তুর একজন খামারি। তার খামারে ১০টি গরুর মধ্যেই ৫টি গাভি। প্রতিদিন ৩০-৩২ লিটার দুধ পান তিনি। বাজারদর ভালো থাকলে এই দুধ বিক্রি করে তিনি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা আয় করেন।
আশাপুর গ্রামের অন্তর আলী জানান, তার বিদেশি জাতের ৪টি গাভি আছে। প্রতিদিন ২৩ থেকে ২৫ লিটার দুধ পান। এই দুধ বিক্রি করে গড়ে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পান। প্রতিদিন ৭০০ থেকে সাড়ে ৭৫০ টাকার ভুসি কিনতে হয় তাকে। ভুসির দাম বেড়ে গেলেও দুধের দাম সে তুলনায় বাড়েনি।
সিংজুরি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান মিঠু বলেন, ‘যেহেতু ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ এ পেশায় জড়িত, তাই তাদের কথা বিবেচনা করে পুরোনো ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি অপসারণ করে দুধের বাজারের
জন্য আলাদা করে আধুনিক শেড নির্মাণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলেই কাজ শুরু করা হবে।’