গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৪১ পিএম
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:১২ পিএম
খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের পর মালিকের হাতে তুলে দিচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম। প্রবা ফটো
হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে রাজবাড়ীতে সাড়া ফেলেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম। রাজবাড়ীবাসী এখন যাকে চেনে এবং জানে মোবাইল উদ্ধারকারী হিসেবে। এখন পর্যন্ত তিনি শতাধিক হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকের হাতে তুলে দিয়েছেন। আরও শতাধিক অনুরোধ রয়েছে তার কাছে।
রেজাউল করিমের কাছ থেকে এমন সেবা পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভুক্তভোগীরা। তাদের ভাষ্য, হারানো মোবাইল উদ্ধারের বিষয়ে থানায় গেলে তেমন সাড়া পাওয়া যায় না। কেউ কেউ আবার উদ্ধার বাবদ খরচ দাবি করেন। কিন্তু জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ ক্ষেত্রে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, রেজাউল করিম শুধু মেসেঞ্জারে একটা রিকোয়েস্ট পেয়ে যেভাবে আন্তরিকতা ও দ্রুততার সঙ্গে সাড়া দেন এবং মোবাইল উদ্ধার করে দেন তা প্রশংসার দাবিদার।
ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমার ফোনটি ঢাকা থেকে চুরি হয়ে যায়। আমি একটি সাধারণ ডায়েরি করি। পরে রেজাউল করিম স্যারের সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ করলে আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখেন। এরপর মাত্র ৬ দিনের মধ্যে আমার ফোনটি উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেন তিনি। ভাবিনি এত দ্রুত ফোনটা ফিরে পাব। ওনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে আগ্রহের বিষয়ে রেজাউল করিম জানান, অনেকটা ভালোলাগা থেকেই শত ব্যস্ততার মাঝেও এ কাজটি তিনি নিয়মিত করে চলেছেন। একজন ব্যক্তি তার খোয়ানো মোবাইল ফিরে পেলে যে আনন্দ পান, সেটাই তার বড় প্রাপ্তি।
যেভাবে শুরু
রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার ফেসবুকওয়ালে গত ৫ জানুয়ারি হারানো একটি মোবাইল উদ্ধারের স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। সেটা দেখে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাফিন নামে একজন ছাত্র মেসেঞ্জারে আমাকে নক করে জানান, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জুনিয়রের মোবাইল ফোন খোয়া গেছে। আমি দ্রুত রেসপন্স করে পাঁচ দিনের মাথায় তার মোবাইল উদ্ধার করে দিই।’
‘ছাত্রজীবনে টিউশনির টাকায় কেনা মোবাইলটা পেয়ে তিনি আমাকে ট্যাগ করে ফেসবুকে একটা ধন্যবাদ স্ট্যাটাস দেন। তার এ স্ট্যাটাস দেখে অনেকেই আমার মেসেঞ্জারে হারানো মোবাইল উদ্ধারের অনুরোধ করতে থাকেন। সেই শুরু। মেসেঞ্জারে তাদের অনুরোধে আমি আর বসে থাকতে পারিনি। আমি আমার প্রতিদিনের রুটিন কাজের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অনুরোধ রাখার চেষ্টা করছি,’ যোগ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এখন পর্যন্ত শতাধিক হারানো ফোন উদ্ধার করে দিয়েছেন তিনি। কক্সবাজার জেলা থেকে শুরু করে কুমিল্লা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, রংপুর, নাটোর, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, ‘এখনও শতাধিক রিকোয়েস্ট প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে আমি যেহেতু রাজবাড়ী জেলায় আছি, তাই এখানকার নাগরিকদেরই অগ্রাধিকার দিই।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেকেই মেসেঞ্জারে অসহায়ত্বের কথা বলেন, অনেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ জানান। মূলত পুলিশের সেবা সম্পর্কে পজিটিভ ধারণা দেওয়ার জন্যই আমার এ প্রচেষ্টা।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে বলেন, ‘যতদিন সুযোগ থাকবে, ততদিন এভাবেই সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাব।’