চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:০৪ পিএম
চট্রগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে তিনটি ওয়াগনের প্রায় ৪০ লিটার ডিজেল পড়ে যায় । ছবি: প্রবা
লাইনচ্যুত ওয়াগন থেকে পড়ে যাওয়া তেল মহেশখালে ছড়িয়ে পড়ছে। এই তেল কর্ণফুলী নদীতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তবে মহেশখালে স্লুইচ গেট বন্ধ থাকলে সেই আশঙ্কা কম। এলাকাবাসী বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই তেল দ্রুত তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তুলে না নিয়ে কর্ণফুলী নদীতে যেতে পারে। তাতে কর্ণফুলীর প্রাণ-প্রকৃতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী।
তিনি বলেন, ‘স্লুইচ গেট খুলে দিলে তেল মহেশখাল থেকে কর্ণফুলী নদীতে ছড়িয়ে পড়বে। এতে কর্ণফুলী নদীতে যেসব জলজ উদ্ভিদ আছে তাদের খাবার ও অক্সিজেন গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে। তাতে পরিবেশের সঙ্গে প্রতিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।’ কারণ এই তেল পানিতে মিশে এক বছরেও নষ্ট হবে না। এ সময় পানিতে যখন সূর্যের তাপ পড়বে তখন আরও পাতলা হয়েছে বেশি আকারে ছড়িয়ে পড়বে জানিয়ে ইদ্রিস আলী বলেন, পানির ওপরে একটি লেয়ার তৈরি হওয়ায় জলজ প্রাণীগুলো বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে পারবে না। শ্যাওলাজাতীয় উদ্ভিদগুলো সূর্যের তাপ পাবে না। তাই খুব দ্রুত খালে ছড়িয়ে পড়া তেল বিশেষ প্রক্রিয়ায় তুলে নিতে হবে। না হয় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর রেলওয়ে গুডস পোর্ট ইয়ার্ড এলাকায় একটি ট্রেনের তেলবাহী তিনটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। সেগুলোতে ডিজেল ছিল। লাইনচ্যুত হওয়া ওয়াগনগুলো থেকে তেল সরাসরি ওই নালায় গিয়ে পড়েছে। নালাটির ৩০ গজের মধ্যে মহেশখালের শাখা। নালা দিয়ে মহেশখালে গিয়ে পড়েছে এসব তেল। তিনটি ওয়াগন থেকে কী পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনটি ওয়াগনের মধ্যে দুটি থেকে তেল বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ২০ থেকে ২৫ হাজার লিটারের বেশি হবে না।
ঘটনার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের থেকে একটি দল ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। ওই দলে থাকা অধিদপ্তরের (চট্টগ্রাম মেট্রো) পরিদর্শক মো. মনির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ঘটনার পর আমরা সেখানে গিয়ে দেখেছি তেল মহেশখালের স্লুইচ গেট এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আগে থেকে স্লুইচ গেট বন্ধ থাকায় তা কর্ণফুলী নদীতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। চারটি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার পর দূষণের মাত্রা জানা যাবে।
উত্তর মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আব্দুল মান্নান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর পেয়ে স্থানীয় অনেক যুবক সংগ্রহ করছেন। অনেকে ১০-১২ লিটার করে সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্ব অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিঞাকে ফোন করা হলে তিনি ঢাকায় আছেন বলে জানান। তিনি বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. আবিদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। আবিদুর রহমানকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি। এর আগে আবিদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হলেও তেল পড়েছে দুটি থেকে। তবে সব তেল পড়েনি। কী পরিমাণ তেল পড়েছে তা এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি।