নীলফামারী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৫৭ এএম
সৈয়দপুরের কুমারগাড়ী দাখিল মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। প্রবা ফটো
নীলফামারীর সৈয়দপুরের কুমারগাড়ী দাখিল মাদ্রাসার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের জুন মাসে। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে। এরপর আরও দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ছয় মাস বন্ধ রয়েছে কাজও।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ভবন নির্মাণকাজে দেরি হচ্ছে। এদিকে নতুন ভবন নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে আগের পুরোনো টিনশেড কক্ষ ও খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মাদ্রাসার পুরোনো টিনশেড ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকার ‘মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হলে মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। কাজের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ১৮ মাস। সে হিসাবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর দুই বছরেরও বেশি সময় পার হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৬০ শতাংশ। মাঝে মাঝে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোক আসে, একটু আধটু কাজ করে। অনেকটা লোক দেখানোর মতো। তা-ও গত ছয় মাস বন্ধ রয়েছে।
তারা আরও জানায়, নতুন ভবনের নির্মাণের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুরাতন ভবনের ৬টি শ্রেণিকক্ষ ভেঙে ফেলে। বর্তমানে যেসব শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে সেগুলো জরাজীর্ণ ও বেহাল অবস্থা। তা ছাড়া শ্রেণিকক্ষ সংকটে গাদাগাদি করে একই কক্ষে অথবা খোলা আকাশের নিচে রোদ, বৃষ্টি, শীত উপেক্ষা করে পাঠ নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের বসার কক্ষটিরও বেহাল দশা। টিন ফুটা হয়ে বৃষ্টির দিনে পানি পড়ে। বইপুস্তকসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়।
রুবেল ইসলাম, লামিয়া আক্তার, অফিবা আক্তার, সুমন ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের অভাব ও জরাজীর্ণ ভবনে পাঠগ্রহণে সমস্যা হচ্ছে। শীত, ঝড়বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ সময় নিয়মিত পাঠগ্রহণ ব্যাহত হয়। বৃষ্টির দিনে বইখাতা ভিজে যায়। আমরা চাই দ্রুত ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হোক।’
মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা যেভাবে পাঠদান অব্যাহত রেখেছি তা একেবারেই অমানবিক। শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি আমাদেরও সমস্য হচ্ছে।’
মাদ্রাসা সুপার ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তারা নির্মাণকাজ শেষ করছেন না। বিষয়টি জানিয়ে আমরা নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর চিঠিও দিয়েছি।’
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শেখ মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘বরাদ্দ সংকট ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।’
জানতে চাইলে নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শাহীনূর ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু করবে।’